সিএবির একাংশের স্বার্থসিদ্ধিতেই বাংলার ক্রিকেটের অন্তর্জলি যাত্রা! ঘুরে দাঁড়াতে স্নেহাশিসের কড়া পদক্ষেপ দাবি
Bengal Cricket: রঞ্জি ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় হয়ে গিয়েছে বাংলার। শুক্রবার থেকে ইডেনে বিহারের বিরুদ্ধে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার। সেটি আবার মনোজ তিওয়ারির বিদায়ী ম্যাচ।
রঞ্জি ছাড়াও সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০, বিজয় হাজারে ট্রফিতেও ব্যর্থ বাংলা। সবমিলিয়ে ছেলেদের ও মেয়েদের ক্রিকেটে এক ডজন দল রয়েছে বাংলা থেকে। বিভিন্ন টুর্নামেন্টের শেষে হতাশার ছবি সব জায়গাতেই।

কেরলের বিরুদ্ধে লজ্জার পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে মনোজ তিওয়ারির দলকে। এই ম্যাচটি বাংলার কাছে ছিল ডু-অর-ডাই। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ফিরতেই আচমকা তাঁর সঙ্গে খেলানো হলো রণজ্যোৎ সিং খাইরাকে। রীতিমতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়ে। রণজ্যোতের ব্যর্থতায় এই পদক্ষেপ ব্যুমেরাং হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ কেন রণজ্যোৎ? শোনা যাচ্ছে, বাংলার এই সিদ্ধান্তের পিছনে সিএবির এক প্রভাবশালীর হাত রয়েছে। সোজা কথায়, একের পর ম্যাচে কোটার প্লেয়ার খেলানোই কাল হচ্ছে। বাংলার দল দেখলে বোঝা যাবে, ১২-১৩ জন ঠিক থাকলেও অনেক ক্রিকেটার সুযোগ পাচ্ছেন, আবার না খেলেই বাদ পড়ছেন। আসছেন নতুন মুখ।
কোন যুক্তিতে ১৮ জনের দল নিয়ে ম্যাচ খেলতে যেতে হচ্ছে, তার কারণ অনুসন্ধানে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, বাংলা দলে সুযোগের আশ্বাস দিয়ে সিএবির কিছু কর্তা নিজেদের ক্লাবে ক্রিকেটারদের নিচ্ছেন। তাঁদের খেলানোর জন্য প্রভাব খাটাচ্ছেন। বাংলা দলের ক্রিকেটারদের ক্লাবগুলি দেখলেই সেটা বোঝা যাবে।
ওই শীর্ষকর্তা বিভিন্ন দলে তাঁর ক্লাবের বা তাঁর 'পেটোয়া'দের খেলানোর জন্য যেভাবে তদ্বির করছেন তা জানতে পেরেছেন সিএবির অন্যান্য শীর্ষকর্তারা। টিম ম্যানেজমেন্টের বিরক্তি বাড়ছে। এ ডাল থেকে ও ডালে ঝাঁপ মারতে সিদ্ধহস্ত ওই কর্তা নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে বিশ্বস্বতার গুণ ত্যাগ করতেও পিছপা হন না।
সিএবির অন্দরের খবর, দল নির্বাচনী বৈঠক-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যেখানে তাঁর থাকার অধিকার বা দরকার কোনওটাই নেই, সেখানেও উচ্চপদস্থ কর্তাদের অনুমতি নেওয়ার ধার ধারেন না ওই শীর্ষকর্তা। সটান ঢুকে পড়েন। তাঁর এই ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ঋদ্ধিমান সাহা সম্পর্কে আপত্তিজনক কথা বলে সিএবির অস্বস্তি বাড়িয়েছিলেন যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস। ঋদ্ধি বাংলা ছেড়ে ত্রিপুরায় চলে যান অভিমানী হয়ে। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হয়ে ঋদ্ধিকে ফেরানোর চেষ্টাও চালান। কিন্তু সৌজন্যেও জোড়া লাগেনি সেই চিড়। বাংলা ছেড়েছেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ও।
বাংলাকে বেশ কয়েক মরশুম ধরে ভোগাচ্ছে ওপেনিংয়ের সংস্যা। হার থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়। ব্যর্থতার ময়নাতদন্তও চলে। কিন্তু কেন ওপেনিংয়ের রোগ কাটিয়ে উঠতে পারছে না বাংলা? ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সেলফি-প্রেমী নির্বাচক প্রধান শুভময় দাসকে।
ময়দানে যাঁরা ওপেনার হিসেবে সফল, তাঁদের কি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে যথাযথভাবে। অভিমন্যু ঈশ্বরণ, শাহবাজ আহমেদ, মুকেশ কুমার, এমনকী আকাশ দীপও জাতীয় নির্বাচকদের নজরে। তাঁদের এই মরশুমে বেশিরভাগ সময় পাওয়া যাবে না, সেটাও অজানা নয়। কিন্তু কী ব্যাক-আপ রেডি ছিল?
অনুষ্টুপ মজুমদার ক-দিন পরেই ৪০ পূর্ণ করবেন। মনোজ তিওয়ারি অবসর নিচ্ছেন। তাঁদের বিকল্প কে হবেন? বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯, অনূর্ধ্ব ২৩ দলের হাল তথৈবচ। যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁরাও সঠিকভাবে দায়িত্ব যে পালন করছে না, এমন অভিযোগও আসছে। এ সব কারণেই বাংলা বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট থেকে সিনিয়র পর্যায়ে ব্যর্থ হয়েই চলেছে।
যদিও ছেলে ও মেয়েদের দলের অনুশীলনেও দেখা যায় সিএবির সর্বঘটে কাঁঠালি কলা মার্কা ওই শীর্ষকর্তাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মুখ দেখাতে বড়ই ভালোবাসেন। অনুশীলনে যাচ্ছেন ভালো কথা, কিন্তু সঠিকভাবে অনুশীলন চলছে কিনা তা কি তিনি খতিয়ে দেখছেন। নিজে উপস্থিত থেকে রিপোর্ট দিচ্ছেন সিএবিকে?
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিশন ২০২০ প্রকল্পের সুফল হিসেবে মুকেশ, আকাশরা জায়গা পাচ্ছেন ভারতীয় দলে। কিন্তু এরপর? অনূর্ধ্ব ১৯ বা অনূর্ধ্ব ২৩ দলে বাংলার প্লেয়ার কোথায়? কোথায় বাংলার ভূমিপুত্ররা? আধার কার্ড দেখিয়ে ভিনরাজ্যের অনেক ক্রিকেটার বাংলায় খেলার ছাড়পত্র পাচ্ছেন, এতেও কি ঘনাচ্ছে না বাংলার ক্রিকেটের আঁধার?
এমন অভিযোগও কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অনেকে আবার প্লেয়ারদের বাংলা দলে সুযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকাও নিচ্ছেন। গুরুতর অভিযোগ। ফলে বুঝতেই পারছেন পাইয়ে দেওয়ার নোংরা খেলা কতদূর অবধি বিস্তৃত। নিশ্চিতভাবেই সিএবি এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখবে।
একজন অধিনায়ক ততটাই ভালো, যতটা ভালো তাঁর দল। যে শীর্ষকর্তাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলবদলু সেই ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমের অনেক প্রতিনিধির কাছে টিম সিএবিরই মুণ্ডপাত করেন। বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে যখন হাহাকার, তখন ওই কর্তাই ম্যাচ শুরুর পর বিশেষ কয়েকজন সাংবাদিককে ব্যারিকেডের কাছে গিয়ে টিকিট বিলিয়েছেন বলে অভিযোগ। কোন স্বার্থে?
সিএবি প্রচুর অর্থ ব্যয় করলেও কিউরেটরদের জন্য ঠিকঠাক খাবার আসছিল না। এ কথা জেনেও নীরব ছিলেন ওই শীর্ষকর্তা। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা তাঁকে চেপে ধরতে বলেছিলেন, আজই ডেকে পাঠাব খাবার সরবরাহকারীকে। কোথায় কী? অবশেষে স্নেহাশিস জানতে পেরে যথাযথ পদক্ষেপ করেন। মিটেছে সেই সমস্যা।
মূল কথা হচ্ছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ওই শীর্ষকর্তা ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন বাংলার ক্রিকেটের সর্বনাশ করছেন। স্নেহাশিস সজ্জন ব্যক্তি। ক্রীড়া প্রশাসনে দীর্ঘদিন না এলেও ক্রিকেটারদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবটা উপলব্ধি করেন। যেটা ঠিক, সেটাই করেন। সমস্যার সমাধান করতে সময় নেন না।
কিন্তু তাঁর নজর এড়ানোর অপচেষ্টা আর বেশিদিন চলবে না বলেই খবর। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাংলা ভারতীয় ক্রিকেটে ক্রমাগত তলানিতে চলে যাবে এটা মানা যায় না। বিহার ম্যাচের পরই আগামীর পরিকল্পনা করতে স্নেহাশিস বড় ঝাঁকুনি দিয়ে বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। বাংলার ক্রিকেটের স্বার্থে তাতে সায় থাকবে শুভানুধ্যায়ীদের।
-
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
চিপকে হার চেন্নাই সুপার কিংসের, সহজেই জিতল শ্রেয়স আইয়ারের পাঞ্জাব কিংস -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা?












Click it and Unblock the Notifications