অস্ট্রেলিয়া বাতিল করল আফগানিস্তান সিরিজ, নারী অধিকার হরণের তালিবানি ফতোয়ার প্রতিবাদ
আফগানিস্তানের শাসনভার তালিবানিদের হাতে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে মহিলাদের ক্রিকেট। মেয়েদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান-সহ নানাবিধ ক্ষেত্রে তালিবানরা ফতোয়া জারি করছে। চাপে পড়ে শর্তসাপেক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে ফতোয়া কিছুটা শিথিল করলেও সামগ্রিকভাবে নারী স্বাধীনতা ও অধিকার বিপন্ন আফগানিস্তানে। সাম্প্রতিক কিছু তালিবানি ফতোয়ার প্রতিবাদে এবার দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার।

মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। সেই সিরিজ অস্ট্রেলিয়া খেলবে না বলেই জানিয়ে দিল। এর ফলে আইসিসি ওডিআই সুপার লিগের ৩০ পয়েন্টই চলে যাবে আফগানদের ঝুলিতে। তবে এতে অস্ট্রেলিয়ার কোনও অসুবিধা হবে না। কারণ, ইতিমধ্যেই ভারতে অনুষ্ঠেয় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে অজিরা। আফগানিস্তানও বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র আদায় করে নিয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান-সহ বিশ্বের সমস্ত দেশেই পুরুষদের ক্রিকেটের পাশাপাশি মহিলাদের ক্রিকেটের বিকাশেও সমানভাবে সবরকম সমর্থনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। অস্ট্রেলিয়ার সরকারও এই পদক্ষেপে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সে দেশের মেয়েদের অবস্থার সামগ্রিক মানোন্নয়নের বিষয়ে আলোচনার দরজা অবশ্য খুলে রাখা হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তরফে।
আফগানিস্তানে নারীদের উপর জারি হওয়া নানা নিষেধাজ্ঞা বা ফতোয়ায় বিচলিত আইসিসিও। আইসিসি সিইও জিফ অ্যালার্ডিস জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে মহিলাদের ক্রিকেট যে অবস্থায় থমকে রয়েছে সেদিকে নজর রাখছে আইসিসি। এই বিষয়ে মার্চে আইসিসির পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হবে। তাঁর কথায়, আফগানিস্তানের শাসনভার হাতবদল হওয়ার পর থেকে সেই দেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আইসিসি বোর্ড। সেখানে মহিলাদের ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে যথাযথ পদক্ষেপ করবে আইসিসি বোর্ড।
উল্লেখ্য, শনিবার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার মেয়েদের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে আইসিসি। সেখানে থাকছে না আফগানিস্তানের দল। আইসিসির পূর্ণ সদস্যের দেশগুলির মধ্যে একমাত্র আফগানিস্তানই ১৬ দলকে নিয়ে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে নেই। ২০২১ সালে তালিবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতার দখল নেওয়ার পর সেখানকার ক্রিকেটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আইসিসি একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করেছিল। আইসিসি ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাওয়াজা আফগান সরকার ও ক্রিকেট আধিকারিকদের সঙ্গে গত নভেম্বরে কথাও বলেন। আফগানিস্তানের তরফে আইসিসির সংবিধান মেনে চলার বার্তা দেওয়া হলেও মহিলাদের ক্রিকেট যে তিমিরে ছিল সেখানেই রয়েছে এখনও।












Click it and Unblock the Notifications