কৃষ্ণের দাদা বলরাম পূর্বজন্মে ছিলেন রামের ভাই লক্ষ্মণ! জানেন, কার অবতার ছিলেন তিনি
বলরাম হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা। আবার তিনি পূর্বজন্মে ছিলেন রামের ভাই লক্ষ্মণ! আবার তিনি বলদেব, বলভদ্র ও হলায়ুধ নামেও পরিচিত ছিলেন। আদতে তাঁকে বিষ্ণুর শয্যারূপী শেষনাগের অবতার রূপে ভাবা হয়। বৈষ্ণবরা তাঁকে মনে করেন তিনি আদতে বিষ্ণুরই অবতার। তাঁকে বিষ্ণুজ্ঞানে পুজোও করেন তাঁরা।
বিষ্ণুর দশ অবতারের তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়। তা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক রয়েছে। তবে তিনি যা-ই হন দ্বাপরে তিনি ছিলেন কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা, আর ত্রেতায় রামের ভাই লক্ষ্মণ, এটাই হিন্দুরা বিশ্বাস করেন। দ্বাপরে রোহিণীর গর্ভে জন্ম হয় বলরামের। রোহিণী ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের পিতা বসুদেবের আর এক পত্নী।

আবার তিনি ছিলেন নন্দরাজের ভগিনী। আবার বলরাম রোহিণীর গর্ভে জন্মালেও তিনি আসলে বাসুদেব-দেবকীর সন্তান। দেবকীর সপ্তম গর্ভে বলরাম আসেন। কংসের হাত থেকে তাঁকে বাঁচানোর জন্য বিষ্ণুদেবের নির্দেশে দেবী যোগমায়া দেবকীর সপ্তম গর্ভের ভ্রূণ নন্দগৃহে রোহিণীর গর্ভে স্থাপিত করেন।
এর ফলে দেবকী মৃত সন্তান প্রসব করেন, আর রোহিণীর গর্ভে জন্ম নেন বলরাম। বল মান শক্তি। শক্তির সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার মিলন হয়েছে বলে তার নাম বলরাম রাখা হয়েছে। বলরাম শান্ত প্রকৃতির। কিন্তু রেগে গেলে ভয়ানক। কৃষ্ণের ঠিক বিপরীত ছিলেন বলরাম।
বলরাম ছিলেন হলধারী। অস্ত্রবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী। ভীম ও দুর্যোধন গদাযুদ্ধ শিখেছিলেন বলরামের কাছেই। শষনাগের অবতার বলরামের প্রধান অস্ত্র ছিল হল বা লাঙল। কথিত আছে, তখন বৃন্দাবন থেকে বেশ খানিকটা দূর দিয়ে বইত যমুনা নদী। সেই নদীকে ওই লাঙল দিয়ে কেটেই সামনে এনেছিলেন বলরাম।

এর ফলে কৃষিকাজের প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। তাঁর জন্যই বৃন্দাবনবাসীদের চাষাবাদে আমূল পরিবর্তন এসেছিল। বৃন্দাবনের কাছ দিয়ে নদীকে বইয়ে দিয়ে তিনি আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন বৃন্দাবনকে। এক নকুন বৃন্দাবন তৈরির রূপকারও বলা হয় তাঁকে।
বলরাম পূর্বজন্মে ছিলেন রামচন্দ্রের ভাই লক্ষ্মণ। পরজন্মে শ্রীকৃষ্ণের দাদা হয়ে জন্মানোর পিছনে একটি গল্পও শোনা যায়! পূর্বজন্মে লক্ষ্ণ একদিন রামের কাছে আবদান করেছিলেন। তিনি বলেন, পরবর্তী কোনো জন্মে যেন তিনি তাঁর দাদা হয়ে জন্মাতে পারেন।
লক্ষ্মণের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন রাম। তিনি বলেছিলেন, ঠিক আছে পরবর্তী জন্মে আমার বড় ভাই হয়ে জন্মাগ্রঙণের সাধ পূরণ হবে। সেইমতো পরবর্তী জন্মে শ্রীরামচন্দ্রকে কৃষ্ণ এবং তাঁর বড়ো ভাই হয়ে বলরাম রূপে জন্ম নিয়েছলেন লক্ষ্মণ। সাধিত হয়েছিল ইচ্ছা।












Click it and Unblock the Notifications