• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

কতটা চড়াই উতরাই পেরিয়ে তিনি 'সুপ্রিয়া দেবী' হয়েছেন , কী বা ছিল তাঁর আসল নাম

'দাদা আমি বাঁচবো.. দাদা তুমি একবার বলো আমি বাঁচবো...'... এক ফুরিয়ে যেতে চলা জীবনের শেষ আর্তনাদ এটাই। সাদা কালোর মোড়কে ঋত্বিক ঘটকের 'মেঘে ঢাকা তারা ' ছবির এই সংলাপের মধ্য দিয়ে আপামর চলচ্চিত্রপ্রেমীর মনে সেসময় থেকেই জায়গা করে নেন সুপ্রিয়া দেবী। সে জায়গা ছিনিয়ে নিতে পারেনি তাঁর মৃত্যুও।

২৬ জানুয়ারির সকালকে ম্লান করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনাবসান হয় বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর। তাঁর মৃত্য়ুতে শোককাতর গোটা বাংলার চলচ্চিত্রমহল। ভাঙা-গড়ার চড়াই উতরাই নানাভাবে ঘিরে রেখেছিল এই সফল অভিনেত্রীর জীবনকে। কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের 'সুপ্রিয়া দেবী' হয়ে ওঠার রাস্তা নেহাত সহজ ছিল না। কেমন ছিল এই সফর , দেখে নেওয়া যাক।

বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ও সুপ্রিয়া দেবী

বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ও সুপ্রিয়া দেবী

বাংলা চলচ্চিত্রে আসার আগে সুপ্রিয়া দেবীর নাম ছিল কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৎকালীন বার্মার মিতকিনায় জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। সময়টা ছিল ১৯৩৫ সাল। সেসময় এদেশ স্বাধীনতার আলোচুকুও দেখেনি। আইনজীবী গোপাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার আলো করে জন্ম নেন সুপ্রিয়া দেবী। বাংলাদেশের ফরিদপুর থেকে তাঁর পরিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চলে আসে বার্মায়।

 নৃত্যশিল্পী সুপ্রিয়া

নৃত্যশিল্পী সুপ্রিয়া

ছোট থেকেই নাচতে ভালোবাসতেন ছোট্ট সুপ্রিয়া। এজন্য় তিনি তৎকালীন বার্মার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে থাইকিন নু সম্মানও পান।

কলকাতায় আসা

কলকাতায় আসা

১৯৪৮ সালে বার্মা ছেড়ে কলকাতায় চলে আসে সুপ্রিয়া দেবীর পরিবার। সে সময়ে জাপান বার্মা আক্রমণ করলে , তাঁর পরিবার কলকাতায় চল আসতে বাধ্য হয়।

সুপ্রিয়া দেবীর বিয়ে

সুপ্রিয়া দেবীর বিয়ে

১৯৫৪ সালে বিশ্বনাথ চৌধুরির সঙ্গে বিয়ে হয় সুপ্রিয়া দেবীর। বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে 'চৌধুরী' হন সুপ্রিয়া দেবী। জন্মায় তাঁদের সন্তান সোমা। ততক্ষণে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি পদাপর্ণ করে ফেলেছেন।

'বসু পরিবার' দিয়ে শুরু

'বসু পরিবার' দিয়ে শুরু

মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে 'বসু পরিবার' ছবি দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন সুপ্রিয়া দেবী। কৃষ্ণা থেকে সেই সময়েই তিনি পরিচিত হতে থাকেন 'সুপ্রিয়া' নামে।

মেঘে ঢাকা তারা

মেঘে ঢাকা তারা

১৯৬০ সালে বাঙালি তথা চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শক পেয়েছে ঋত্বিক ঘটকের 'মেঘে ঢাকা তারা ' ছবিটি। এই ছবিতে অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্য়ায়কে যেমন নতুন ভাবে আবিষ্কার করা গিয়েছে, তেমনই দর্শককে মুগ্ধ করেন সুপ্রিয়া দেবী। এই ছবি সুপ্রিয়া দেবীর জীবনে একটি কালজয়ী অধ্যায় হয়ে থেকে যায়।

'সন্ন্যাসী রাজা' থেকে 'নেম সেক'

'সন্ন্যাসী রাজা' থেকে 'নেম সেক'

সুপ্রিয়া দেবীর অভিনয় বাঙালিকে মুগ্ধ করার মতো বহু রসদ দিয়েছে। উত্তম কুমারের সঙ্গে 'সন্ন্যাসী রাজা' -য় তাঁর অভিনয় মন্ত্রমুগ্ঘ করেছএ দর্শককে। এছাড়াও 'বনপলাশর পদাবলী', ' বাঘবন্দি খেলা','চিরদিনের', 'চৌরঙ্গি','দেবদাস' ,'কলঙ্কিনি কঙ্কাবতী',ছবিও তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে তুলে দেয়। এরপর , বয়স্কালে একাধিক ছবির পাশাপাশি ,ঝুম্পা লাহিড়ির লেখা মীরা নায়ারের পরিচালিত 'নেমসেক' ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন।

পদ্মসম্মান থেকে বঙ্গসম্মান

পদ্মসম্মান থেকে বঙ্গসম্মান

সুপ্রিয়া দেবী তাঁর জীবনে বহু চড়াই উতরাই পার করেছেন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন একাধিক টানাপোড়নে জড়িয়ে যায়। তবে খ্যাতি আর সম্মান তাঁকে কোনও দিনই ছেড়ে যায়নি। পদ্মশ্রী থেকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে তাঁকে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও ফিল্মফেয়ার (পূর্ব) বিভাবে তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানে ভূষিত করা হয়।

English summary
Details Information on The Life of Vetern Bengali Actress Supria Devi.
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X