বছর শেষে দেখে নেওয়া যাক বলিউডের কোন কোন তারকার আলো চিরতরে নিভে গেল
বছর শেষে দেখে নেওয়া যাক বলিউডের কোন কোন তারকার আলো চিরতরে নিভে গেল
আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। এরপর বিদায় নেবে ২০২০ সাল। নতুন বছর ২০২১ সালকে নিয়ে এখন সকলের আশা–ভরসা নির্ভর করছে। ২০২০ সাল আসার পর থেকেই বছরটা কারোর পক্ষেই ভালো ছিল না। এ বছরই করোনা মহামারি মানুষের সুস্থ–স্বাভাবিক জীবনকে ছন্দহীন করে দেয়। আর এ বছরই আমলা বলিউডের বেশ জনপ্রিয় কিছু অভিনেতা–অভিনেত্রীকেও হারিয়ে ফেলি, যাঁদের অকাল প্রয়াণ গভীরভাবে দাগ কেটে গিয়েছে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে।

ইরফান খান (১৯৬৭–২০২০)
বলিউড তথা হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দক্ষ অভিনেতা, যিনি সব চরিত্রে সাবলীল ছিলেন, সেই ইরফান খান প্রয়াত হলেন এ বছরের ২৯ এপ্রিল। মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে মারা যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ইরফান খান ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৩। ২০৮ সালে তিনি নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যান্সারের ডায়গনোসিস করানোর পর থেকেই তাঁর শরীরের অবনতি হতে শুরু করে। ইরফান নিজের চিকিৎসার জন্য প্রায়ই লন্ডনে যেতেন। লাইফ ইজ এ মেট্রো, লাঞ্চ বক্স, স্ল্যামডগ মিলেনিয়াম, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, পান সিং তোমার, পিকু, লাইফ অফ পাই, মকবুল, মাদারি, কারওয়ান, হিন্দি মিডিয়াম সহ অসংখ্য ছবিতে নিজের অসাধরণ অভিনয় প্রতিভা দেখিয়েছেন। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ছবি অ্যাংরেজি মিডিয়াম, যা মুক্তি পায় ১৩ মার্চ।

ঋষি কাপুর (১৯৫২–২০২০)
ইরফান খানের মৃত্যুর পরের দিন অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল আর এক কিংবদন্তী অভিনেতা ঋষি কাপুরের মৃত্যু হয়। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ২০৮ সালে ঋষি কাপুরের ক্যান্সার ধরার পর তিনি চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে চলে যান। ২০১৯ সালের শেষের দিকে তিনি ফিরেও আসেন। ববি, খেল খেল মে, অমর আকবর অ্যান্টনি, ইয়ে বাদা রাহা, মেরা নাম জোকার, লয়লা মজনু, প্রেম রোগ, কর্জ, বোল রাধা বোল, চাঁদনি, নাগিনা, সরগম, দিওয়ানা, কাপুর অ্যান্ড সনস, অগ্নিপথ, নসিব, দামিনী সহ বু ছবিতে রোম্যান্টিক হিরোর পাশাপাশি খল নায়কের চরিত্রেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। অনেক ছোট বয়েস থেকেই ঋষি কাপুর ওরফে চিন্টু অভিনয় করছেন। স্ত্রী নীতু কাপুর ও ছেলে রনবীর কাপুরও সিনেমার সঙ্গে যুক্ত।

সুশান্ত সিং রাজপুত (১৯৮৬–২০২০)
এ বছর সবচেয়ে অবাক দেশবাসীকে করেছে যাঁর মৃত্যু তিনি হলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। গত ১৪ জুন বান্দ্রায় নিজের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ হতেই দেশবাসী সহ গোটা বলিউড গুম মেরে যায়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে বলিউডের প্রচুর অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক-প্রযোজককে ডেকে তাঁদের বয়ান রেকর্ড করে বান্দ্রা পুলিশ। এমনকী এই মৃত্যু কাণ্ডের তদন্তে নামে সিবিআইও। কিন্তু সকলের তদন্তে এটাই উঠে আসে যে সুশান্ত মানসক অবসাদে ভুগছিলেন এবং তার থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেন। সুশান্তের মৃত্যু হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির স্বজন পোষণকে জাগিয়ে তোলে। সোশ্যাল মিডিয়া সুশান্তের মৃত্যুর বিচারের জন্য সরব হয়। সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে যোগ হয় বলিউড মাদক মামলাও। টিভি সিরিয়াল পবিত্র রিস্তা দিয়ে শুরু করে বলিউডে কাই পোচে দিয়ে রাখেন সুশান্ত। এরপর কেদারনাথ, শুদ্ধ দেশি রোম্যান্স, পিকে, ড্রাইভ, ছিচোড়ে, এম এস ধোনি, রাবতা, ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ সহ আরও বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর শেষ ছবি দিল বেচারা মুক্তি পায় তাঁর মৃত্যুর পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

বাসু চ্যাটার্জি (১৯২৭–২০২০)
পরিচালক-চিত্রনাট্যকর বাসু চ্যাটার্জির মৃত্যু হয় ৪ জুন মুম্বইতে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বাসু চ্যাটার্জি তাঁর স্বতন্ত্র সিনেমার জন্য এবং হিন্দি সিনেমার মাঝ-রাস্তার পথিকৃত হিসাবে খ্যাত। ছোটি সি বাত, রজনীগন্ধা, চিতচোর, বাতো বাতো মে, এক রুকা হুয়া ফয়সলা এবং চামেলি কি শাদি সহ অন্য ছবিগুলি সমাজকে আলাদা আলাদা বার্তা দিয়েছে।

ওয়াজিদ খান (১৯৭৮–২০২০)
বলিউডের সঙ্গীত পরিচাললক সাজিদ-ওয়াজিদ খান জুটির ওয়াজিদ খান মারা গেলেন গত ১ জুন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মৃত্যুকালে বয়ল হয়েছিল ৪২ বছর। ওয়াজিদের কিছু জনপ্রিয় গান হন হল, হুড় হুড় দাবাং, জলবা, চিন্টা টা টা চিতা চিতা, ফেভিকল সে, সুরিলি আখিঁয়ো ওয়ালে সহ আরও অনেক।

সরোজ খান (১৯৪৮–২০২০)
বলিউড যাঁর পায়ের তালে, কোমরের ঠুমকায় নাচ শিখেছে, সেই কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের মৃত্যু হয় গত ৩ জুলাই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৭১ বছরের সরোজ খানের। ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ২০০০ বেশি গানে কোরিওগ্রাফ করেছেন। সরোজ খানের সঙ্গে সফলভাবে সমন্বয় করেছেন মাধুরী দীক্ষিত ও শ্রীদেবী। তাঁর জনপ্রিয় কোরিগ্রাফ হল, এক দো তিন, হাম কো আজ কাল হ্যায় ইন্তেজার, ধক ধক করনে লাগা, চোলি কে পিছে ক্যায়া হ্যায়, তাম্মা তাম্মা, মার ডালা, ডোলা রে ডোলা রে, বরষো রে মেঘা, নিম্বুড়া নিম্বুড়া, ঘর মোহে পরদেশিয়া।

জগদীপ (১৯৩৯–২০২০)
শোলে ছবির সুর্মা ভোপালির কথা আজও অনেকের স্মরণে রয়েছে। গত ৮ জুলাই সুর্মা ভোপালি তথা জগদীপ মারা যান। বয়সজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি ৪০০ বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তিনি দর্শকদের কমিকের মাধ্যমে হাসতে বাধ্য করতেন।

সমীর শর্মা
বলিউড তথা টেলি অভিনেতা সমীর শর্মা আত্মহত্যা করে মারা যান ৬ অগাস্ট। তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে। ৪৪ বছরের অভিনেতা কাজ করেছেন কিউকি শাস ভি কভি বহু থি, লেফট রাইট লেফট, জ্যোতি, ইস প্যায়ার কো ক্যায়া নাম দুসহ আরও অনেক কিছুতে। ২০১৪ সালে তিনি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও পরিণীতি চোপড়ার সঙ্গে হাসি তো ফাসিতে কাজ করেছেন।

আসিফ বসরা (১৯৬৭–২০২০)
বলিউড অভিনেতা আসিফ বসরা ১২ নভেম্বর হিমাচল প্রদেশের একটি গেস্ট হাউসে আত্মহত্যা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। কোনও সুইসাইড নোট তিনি রেখে যাননি। ব্ল্যাক ফ্রাইডে, পরজানিয়া, আউটসোর্সড, জব উই মেট, ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বই, কাই পো চে, ক্রিশ ৩, এক ভিলেন, কালাকান্ডি ও হিচকির মতো ছবিতে তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। বলিউডে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি।

এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যম (১৯৪৬–২০২০)
গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন কিংবদন্তি গায়ক এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যম। চেন্নাইয়ের হাসপাতালে প্রায় ২ মাস ধরে চিকিত্সা চলার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি তামিল ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। ৫৫ বছরের সঙ্গীতের কেরিয়ারে প্রায় ৪০,০০০-এরও বেশি গান গেয়েছেন এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যম।

ফরাজ খান (১৯৭৪–২০২০)
ফরেব খ্যাত ফরাজ খান ৫০ বছর বয়সেই মারা গেলেন গত ৪ নভেম্বর। স্নায়ুর রোগে তাঁর চিকিৎসা চলছিল বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে। সলমন খান তাঁর চিকিৎসার জন্য তাঁকে আর্থিক সহায়তাও করেন। ফরজের ঝুলিতে রয়েছে মেহেন্দি, ফরেব, দুলহন বানু ম্যায় তেরি এবং চাঁদ বুঝ গয়ার মতো ছবি।
{quiz_448}












Click it and Unblock the Notifications