কংগ্রেস হীনবল হচ্ছে দেশে, তৃতীয় ফ্রন্টই কি তাহলে প্রধান বিরোধী পক্ষ বিজেপির
জাতীয় রাজনীতিতে কি বদলে যাচ্ছে বিরোধীপক্ষের সমীকরণ। পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর আরও হীনবল হয়েছে কংগ্রেস। ফলে দেশের বিরোধী রাজনীতিতে তৃতীয় ফ্রন্ট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে চলেছে।
জাতীয় রাজনীতিতে কি বদলে যাচ্ছে বিরোধীপক্ষের সমীকরণ। পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর আরও হীনবল হয়েছে কংগ্রেস। ফলে দেশের বিরোধী রাজনীতিতে তৃতীয় ফ্রন্ট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে চলেছে। তৃতীয় ফ্রন্ট আদতে দেশের বুকে দ্বিতীয় ফ্রন্ট হয়ে উঠছে। অর্থাৎ কংগ্রেসকে বাদ রেখে আঞ্চলিক দলগুলিই একত্রিত হয়ে প্রধান বিরোধী হয়ে ওঠার তোড়জোড় আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গোয়া থেকে টুইট করেছিলেন, দলের সিনিয়র নেতাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি নির্বাচনী প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার জন্য। মোদী তখনই লিখেছিলেন, তাঁর দল এবং দলের নেতারা 'কংগ্রেস মুক্ত ভারত' নির্মাণের জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা হবে।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যখন এই তোপ দেগেছিলেন মোদী, তখন ইউপিএ জোটের অস্তিত্ব ছিল না। এখন কংগ্রেস ইউপিএ জোটের নেতৃত্বে রয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে আরও অনেক দল রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। কংগ্রেসের সেই হারানো জায়গা ভরাট করতে আঞ্চলিক দলগুলি একত্রিত হয়ে প্রধান বিরোধী হয়ে ওঠার খেলায় নেমেছে।
পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে ২০২৪-এ ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে। কংগ্রেস পাঁচ রাজ্যে হারলেও, তারা প্রতি ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় তো হয়েছে। সেখানে যদি তৃতীয় ফ্রন্টের আবির্ভাব হয়, তাহলে বিজেপির পাল্লা যে আরও ভারী হবে, তা বলাই যায়। এখন দেখার তৃতীয় ফ্রন্ট ২০২৪-এর নির্বাচনে কীভাবে আবির্ভুত হয়।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে ২০২২-এর শেষে গুজরাটে নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন রযেছে কর্নাটকেও। কংগ্রেস যদি এই রাজ্যগুলিতে ভালো ফল করে, তবে ফের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। আবার কংগ্রেস যদি রাজস্থান ও ছত্তিশগড় হারায়, তবে কংগ্রেস একেবারে খাদের কিনারায় চলে যাবে।
আর সেইসঙ্গে কংগ্রেস একেবারে মুছে যাবে দেশ থেকে। কোনও রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার থাকবে না। এমনকি যদি কংগ্রেস উভয় রাজ্য ধরে রাখতে সফল হয়, তবুও বিরোধী দলগুলির মধ্যে আধিপত্য বজায় রাখা কংগ্রেসের পক্ষ মুশকিল হয়ে যাবে। মোট কথা ২০২৪-এর আগে বিজেপি-বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলির ফ্রন্ট কংগ্রেসের থেকে শক্তিশালী রূপে আবির্ভূত হতে পারেছ।
কংগ্রেস শুধু বেশিরভাগ রাজ্যে বিরোধী থেকে আঞ্চলিক দলগুলির ফ্রন্টকে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। কারণ আঞ্চলিক দলগুলি মানবে না কংগ্রেসকে। এখনও কংগ্রেসের দিকে রয়েছে ইউপিএর কিছু দল। ডিএমকের মতো অনেক দলই কংগ্রেসকে ছাড়া বিরোধী ঐক্য মানতে নারাজ। এমনকী শিবসেনার মতো দলও কংগ্রেসকে নিয়ে বিরোধী ঐক্য চাইছে। তবুও কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে।
এই মুহূর্তে বিরোধী পক্ষে কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে তৃণমূল ও আম আদমি পার্টি। আম আদমি পার্টি দুটি রাজ্যে ক্ষমতায়। তৃণমূল ক্ষমতায় পশ্চিমবঙ্গে। আম আদমি পার্টির দুই রাজ্যে ২০ আসন আর তৃণমূলের রাজ্যে ৪২ লোকসভা আসনে লড়াই। তবে কংগ্রেস একা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে প্রায় ২৫০ আসনে। কিন্তু বাকি প্রায় ৩০০ আসনে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ। তাদের মধ্যে কিছু আঞ্চলিক দল কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে এখনও।
এখন দেখার কংগ্রেস আগামী দিনে পাঁচটি প্রধান রাজ্যে কতটা ভালো ফল করতে পারে। আর কংগ্রেসের সমর্থনে কোন কোন আঞ্চলিক দল থাকে। আম আদমি পার্টি ও তৃণমূলের মতো অন্যান্য আঞ্চলির দলগুলি যদি কংগ্রেসকে মানতে না চায়, তবে ২০২৪-এর লড়াই কংগ্রেসের কাছে কঠিন থেকে কঠিনতর হতে চলেছে।
আঞ্চলিক দলগুলি রাজ্য থেকে রাজ্যের ভিত্তিতে কৌশলগত আসন সমন্বয় ঘটাবে, তা ধরে নেওয়াই যায়। অনেক ক্ষেত্রেই তারা নির্বাচনের পরে সমীকরণ গড়ে তোলার দিকে জোর দেবে। বর্তমানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা টিআরএস সুপ্রিমে কে সি রাও এবং হালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল মোদী-বিরোধী প্রধান বিরোধী মুখ হওয়ার লড়াইয়ে সামিল হচ্ছে। তাঁরা অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির সুপ্রিমোর সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের পাল্লা ভারী করতে চাইছে। আর কংগ্রেস ব্যস্ত অন্দরের কোন্দল নিয়েই। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও আশাব্যঞ্জক ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications