মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা! জ্বালানি সঙ্কটের কারণে বিমান ভাড়া বাড়াচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া
এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে, তারা তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কজুড়ে জ্বালানি সারচার্জ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করবে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জেট ফুয়েলের (অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF) দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থা জানিয়েছে যে, জ্বালানি সারচার্জ "এইভাবে" বাড়ানোর জন্য তারা দুঃখিত হলেও, "তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণের" জন্যই এটি করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি পদক্ষেপ নয়, বরং তাদের পরিচালনগত অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি জরুরি পদক্ষেপ।

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ জারি করা এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ উল্লেখ করেছে, "২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF), যা একটি এয়ারলাইনের পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০% পূরণ করে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ভারতে, দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো প্রধান মেট্রো শহরগুলিতে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) উপর উচ্চ আবগারি শুল্ক এবং ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে খরচের প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায় এবং এয়ারলাইনগুলির পরিচালন অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে।"
এয়ার ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত জ্বালানি সারচার্জ তিন ধাপে কার্যকর করা হবে এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস পরিচালিত ফ্লাইটসহ সমস্ত ফ্লাইটের ভ্রমণে প্রযোজ্য হবে।
প্রথম ধাপে, ১২ মার্চ, থেকে করা সমস্ত নতুন বুকিংয়ের জন্য জ্বালানি সারচার্জ চালু করা হবে। এই ধাপে বেশ কয়েকটি রুটে ভাড়া বাড়ছে।
অভ্যন্তরীণ ভারতীয় এবং সার্ক (SAARC) রুটের জন্য সারচার্জ হবে ৩৯৯ টাকা। পশ্চিম এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের রুটে ১০ ডলার সারচার্জ ধার্য করা হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফ্লাইটে সারচার্জ ৪০ ডলার থেকে বেড়ে ৬০ ডলার হবে, অন্যদিকে আফ্রিকার রুটে এটি ৬০ ডলার থেকে ৯০ ডলারে বৃদ্ধি পাবে।
বিমান সংস্থাটি আরও জানায় যে, সিঙ্গাপুরের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে আপাতত কোনও সারচার্জ ধার্য করা হয়নি। তবে, প্রথম ধাপ থেকেই সিঙ্গাপুর থেকে ওড়া ফ্লাইটের ক্ষেত্রে জ্বালানি সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ থেকে করা বুকিংগুলির জন্য কার্যকর হবে। এই ধাপে দীর্ঘপাল্লার রুটে সারচার্জ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে গ্রুপ ঘোষণা করেছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, ইউরোপগামী ফ্লাইটের সারচার্জ ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৫ ডলার হবে। উত্তর আমেরিকার রুটে সারচার্জ ১৫০ ডলার থেকে বেড়ে ২০০ ডলার হবে, এবং অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও এটি ১৫০ ডলার থেকে বেড়ে ২০০ ডলারে পৌঁছবে।
তৃতীয় ধাপটি দূরপ্রাচ্যের বাজার, যার মধ্যে রয়েছে হংকং, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সেগুলির জন্য প্রযোজ্য হবে। এই ধাপের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
এয়ারলাইন্স স্পষ্ট করেছে যে, কার্যকর হওয়ার সময়সীমার আগে ইস্যু করা টিকিটগুলিতে নতুন সারচার্জ ধার্য হবে না, যদি না যাত্রীরা তাদের যাত্রাপথ বা তারিখ পরিবর্তন করেন, যার জন্য ভাড়ার নতুন গণনা প্রয়োজন হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণগুলির দ্বারাই আবশ্যক। একটি বিবৃতিতে তারা বলেছে, "এয়ার ইন্ডিয়া জ্বালানি সারচার্জ এইভাবে বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুঃখিত, তবে এটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণ দ্বারা বাধ্য।"
"এই ধরনের জ্বালানি সারচার্জ না থাকলে, কিছু ফ্লাইট সম্ভবত পরিচালন ব্যয় মেটাতে পারত না এবং বাতিল করতে হতে পারত," তারা আরও যোগ করে। এয়ার ইন্ডিয়া পর্যায়ক্রমে তাদের সারচার্জ পর্যালোচনা করবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ সমন্বয় করবে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বর্তমানে তাদের কোনো ফ্লাইটে জ্বালানি সারচার্জ ধার্য করে না বলেও জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications