হোম
 » 
লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
 » 
বিজেপি বনাম আইএনসি বনাম সিপিএম ইস্তেহার

বিজেপি বনাম আইএনসি বনাম সিপিএম লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ এর ইস্তেহার

সমস্ত ব রাজনৈতিক দলগুলি লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে। সকলে জানেন, যে ইস্তেহার প্রকাশ করা হয় তাতে রাজনৈতিক দলগুলির ভাবনা, উদ্দেশ্য থাকে। ফলে যাচাই করে নিন কোন দল ইস্তেহারে পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি নিয়ে কী বলেছে। দেখুন এলাকা ভেদে ইস্তেহারের তুলনা যা দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলি করেছে। দল নির্বাচন করে এলাকা নির্বাচন করুন। এবং এক ক্লিকে দেখে নিন কোন দল কী বলছে।

বিজেপি
আইএনসি
সিপিএম
--বাছুন নির্বাচনী বিষয়--
বিজেপি
দলের লক্ষ্য:
  • ১৩০ কোটি জনগণের স্বপ্ন নিয়ে নতুন ভারত - একসঙ্গে চলুন এক শক্তিশালী ভারত গড়ি। যেখানে নাগরিকেরা সম্ভ্রম, সম্মান, উন্নতি, নিরাপত্তা ও সুযোগ নিয়ে বাঁচবেন।
পরিকাঠামো:
  • ২০২৪ সালের মধ্যে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করব। ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম হাই স্পিড অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের দ্বারা সংযুক্ত হবে। সুজল যোজনায় পানীয় জল পাওয়া নিশ্চিত হবে। আমরা জল জীবন মিশন শুরু করব। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে নলের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেব। আগামী পাঁচ বছরে ৬০ হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়ক তৈরি করব। দেশের রেলের আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ করা হবে। সমস্ত বড় স্টেশনে ২০২২ সালের মধ্যে ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে চালু বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ করব আমরা।
শিক্ষা:
  • আমরা টিচার্স ট্রেনিংয়ে ফোকাস করব। আমরা শিক্ষকদের জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টিচার্স ট্রেনিং প্রতিষ্ঠা করব। এখানে চার বছরের কোর্স হবে যা স্কুলে স্কুলে গুণমানে ভালো শিক্ষকের যোগান দেবে। আমরা শিক্ষায় প্রযুক্তির আরও ব্যবহার করব। ২০০টি কেন্দ্রীয় ও নবোদয় বিদ্যালয় খুলব। ২০২৪ সালের মধ্যে আরও ৫০টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলব।
চাকরি ওকর্মসংস্থান:
  • আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করব। ভারতীয় অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ২২টি ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। উদ্যোগপতিদের ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কোনও দায়ভার ছাড়া ঋণের ব্যবস্থা করব আমরা। এছাড়া কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্পে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা:
  • সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলব। সেনাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া থাকবে সন্ত্রাসবাদ দমনে। প্রতিরক্ষা খাতে যে সামগ্রী কিনতে হবে তা যত দ্রুত সম্ভব কিনে ফেলা হবে। প্রতিরক্ষায় মেক ইন ইন্ডিয়া নীতিতে জোর দেব। পুলিশের আধুনিকীকরণ ও সেনার উন্নয়নে জোর দেব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এনআরসি সম্পূর্ণ করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের অন্য রাজ্যেও এনআরসি লাগু করব। ২০২৪ সালের মধ্যে আরও ১৪টি চেকপোস্ট তৈরি করব। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভূটানের মধ্যে যাতায়াত চেক পোস্টের মাধ্যমে হবে।
কৃষি:
  • তৈল বীজ ও অন্যান্য শস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোব। জাতীয় সড়কের পাশে ন্যাশনাল ওয়্যারহাউসিং গ্রিড তৈরি করব। আমরা রাসায়নিক মুক্ত অর্গ্যানিক ফার্মিংয়ে জোর দেব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ব্লক চেইন, বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স দিয়ে যুব কৃষি বিজ্ঞানীদের ট্রেনিং দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা হবে যা কৃষিতে আরও ভালো ফল মেলে।
কৃষক উন্নয়ন:
  • প্রধান মন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার পরিধি বাড়ানো হবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক সমস্ত চাষিদের পেনশন দেওয়া হবে। ১ থেকে ৫ বছরের জন্য ০ শতাংশ সুদে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। কৃষিক্ষেত্রে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় সমস্ত চাষিদের নাম নথিভুক্ত করা হবে।
মহিলা:
  • মহিলাদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সংবিধান সংশোধন করে সংসদে ও বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণে বিজেপি দায়বদ্ধ। মেয়েদের শিক্ষায় ও উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সাহায্য করা হবে। সমস্ত মহিলাদের মাত্র ১ টাকায় স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য:
  • ২০২২ সালের মধ্যে গরিবদের একেবারে দরজায় স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পৌঁছে দেব। প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ অথবা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করব ২০২৪ সালের মধ্যে। ২০২২ সালের মধ্যে ৭৫টি মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট তৈরি হবে।
অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন:
  • আমরা ইতিমধ্যে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে গিয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হয়ে যাব। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ করার স্বপ্ন দেখি আমরা। যার অর্থ ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি হয়ে যাবে। ২০৩২ সালের মধ্যে হবে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি।
শিল্পায়ন:
  • ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম মোতাবেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ গ্যারান্টি সহকারে দেওয়া হবে। ২০১৭-১৮ সালে এই খাতে ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। যুবদের মধ্যে উদ্যোগের ইচ্ছে বৃদ্ধি করতে কোনও কিছু দায়ভার ছাড়াই ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
গৃহ:
  • যাদের বাড়ি নেই বা কাঁচা বাড়িতে থাকেন তাদের জন্য প্রতিটি পরিবারের জন্য পাকা ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। জল জীবন মিশন প্রকল্প চালু করব আমরা। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রত্যেকের বাড়িতে পাইপের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ:
  • ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব। আমরা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি তৈরিতে বড় সাফল্য পেয়েছি। ২০২২ সালের মধ্যে আরও বড় লক্ষ্যে পৌঁছে যাব আমরা।
তপশিলি জাতি/উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য:
  • শিক্ষা সকলের কাছে পৌঁছে দেব। যে ব্লকে ৫০ শতাংশ তপশিলি উপজাতি জনসংখ্যা রয়েছে সেখানে একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল তৈরি করব। আদিবাসী এলাকায় ৫০ হাজার জন ধন বিকাশ কেন্দ্র তৈরি করব।
মুদ্রাস্ফীতি:
দুর্নীতি দমন:
  • দুর্নীতি রোধ করতে মোদী সরকার নানা পদক্ষেপ করেছে। যেমন অর্থনৈতিক অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ধরতে ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার অ্যাক্ট ২০১৮ তৈরি করেছে। এছাড়া প্রিভেনশন অব কোরাপশন (সংশোধনী) অ্যাক্ট ২০১৮, বেনামি ট্রানজ্যাকশন প্রহিবিশন (সংশোধনী) অ্যাক্ট ২০১৬ তৈরি হয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই সরকার আরও স্বচ্ছভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কর:
  • কর কমিয়ে এনে জীবনযাত্রা সহজ করা আমাদের লক্ষ্য ছিল। ফলে করে আমরা জোর দিয়েছি। কর থেকে জিডিপির অনুপাত ১২ শতাংশে পৌঁছেছে। যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বেশি। ২০১৩-১৪ সালে তা ছিল ১০.১ শতাংশ। বাড়তি রাজস্ব গরিবদের পিছনে খরচ করা হচ্ছে। একইভাবে আমরা নীতি রূপায়ন করে যাব। সৎ করদাতাদের ছাড়া দিয়ে সুবিধা করা হবে। গত তিন বছরে জিএসটি থেকে রাজস্ব ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যান্য উদ্যোগ:
  • রাম মন্দির নিয়ে আমাদের অবস্থান একই রয়েছে। সংবিধানের মধ্যে থেকেই আমরা সর্বতো চেষ্টা করব। ২০২২ সালের মধ্যে ক্লিন গঙ্গা লক্ষ্য হাসিল করব। সব ঘরের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করব। প্রতিটি ব্লকে অটল ল্যাব তৈরি হবে। টিয়ার ১ ও টিয়ার ২ শহরে পাইপের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হবে। গঙ্গাযান মিশনের মাধ্যমে মহাকাশে ভারতীয় পাঠানো হবে। স্বদেশ দর্শন, প্রসাদ ও হৃদয় প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্ত উন্নয়ন মূলক প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হবে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তান ও পাক অধীকৃত কাশ্মীরের উদ্বাস্তুদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাজারকে যুক্ত করা হবে। যোগা হেলথ হাব, যোগা ট্যুরিজম ও যোগা নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র তৈরি হবে।
আইএনসি
দলের লক্ষ্য:
  • জনতার আওয়াজ শোনাই আমাদের লক্ষ্য। এটা কারও মন কি বাত এর মতো নয়। বরং কোটি কোটি মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।
পরিকাঠামো:
  • রেলের পরিকাঠামো ঢেলে সংষ্কার করব আমরা। সেক্টর ধরে ধরে পরীক্ষিত পিপিপি মডেলে কাজ হবে যাতে গণ সামগ্রীর সরবরাহ বাড়ে। প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে নতুন নীতি তৈরি করব। নতুন নগর, শহর তৈরিতে এমনকী স্যাটেলাইট টাউন তৈরিতে রাজ্য সরকারগুলিকে আমরা সাহায্য করব।
শিক্ষা:
  • শিক্ষা খাতে খরচ জিডিপির ৬ শতাংশে নিয়ে যাব আগামী পাঁচ বছরের শেষে ২০২৩-২৪ সালে। সরকারি স্কুলে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও নিখরচায় হবে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ও নবোদয় বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। মেডিসিন. ইঞ্জিনিয়ারিং, কমার্স, ম্যানেজমেন্ট ও বিজ্ঞানের জন্য আরও উচ্চশিক্ষার ইনস্টিটিউট তৈরি করব। ছাত্র অধিকার বিল তৈরি করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের অধিকারকে সুনিশ্চিত করব।
চাকরি ওকর্মসংস্থান:
  • বর্তমান কর্মসংস্থানকে রক্ষা ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে জোর দেওয়া হবে। শিল্প, পরিষেবা ও কর্মসংস্থানের নতুন মন্ত্রক খোলা হবে। কেন্দ্র সরকার, কেন্দ্র অনুমোদিত পাবলিক সেক্টর, আইন ব্যবস্থা, সংসদ সহ নানা জায়গায় যে চার লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে তা ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে পূরণ করা হবে। রাজ্য সরকারগুলি যে ২০ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে তা পূরণ করার চেষ্টা করুক। রাজ্য সরকার নতুন সেবা মিত্র পদ তৈরি করবে। সরকারি পরীক্ষা ও সরকারি পদের জন্য যে আবেদন ফি লাগে তা মকুব করা হবে। যোগ্য শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক্স, ইনস্ট্রাক্টর, টেকনিশিয়ানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে লক্ষাধিক কাজের সুযোগ তৈরি হবে। আশা প্রকল্পকে ঢেলে সাজানো হবে। নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যুব সমাজ যাতে প্রশিক্ষিত হয় সেটা নজর রাখা হবে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা:
  • এনডিএ সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা খাতে যেভাবে বরাদ্দ কমেছিল তাকে ঘুরিয়ে দেবে কংগ্রেস যাতে সেনার প্রয়োজন মেটানো যায়। স্বচ্ছভাবে সেনার আধুনিকীকরণ করব আমরা। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ যাতে সরকারের মুখ্য পরামর্শদাতা হতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম যাতে দেশে তৈরি করা যায় তার ব্যবস্থা করবে কংগ্রেস।
কৃষি:
  • সব রাজ্যের কৃষকদের ঋণ মকুব করবে কংগ্রেস। প্রান্তিক চাষি ও কৃষি শ্রমিকদের জন্য কমিশন ও নীতি তৈরি হবে। যা তাদের উচ্চ আয় ও মজুরি পেতে সাহায্য করবে। শস্য চাষ বাদেও হর্টিকালচার, ফ্লোরিকালচার, ডেয়ারি ও পোলট্রি থেকে যাতে আয় বাড়ানো যায় সেই প্রচেষ্টা করা হবে। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তিতে যেমন জোর দেওয়া হবে, তেমনই অর্গ্যানিক ফার্মিংয়েও জোর দেওয়া হবে।
কৃষক উন্নয়ন:
  • গ্রামীণ পরিকাঠামোর জন্য ফান্ড তৈরি করবে কংগ্রেস। যা থেকে অর্থ পঞ্চায়েত ও পুরসভার মাধ্যমে ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মনরেগা ৩.০ চালু করবে সরকার। যাতে জলের নিরাপত্তা, মাটির নিরাপত্তা ও কৃষকদের নানা সমস্যার সমাধান করা যায়। যে সমস্ত জায়গায় একশো দিনের কাজ করে ফেলা গিয়েছে, সেখানে তা বাড়িয়ে দেড়শো দিন করা হবে। মনরেগার অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ক্লাসরুম, লাইব্রেরি তৈরি হবে। যে সমস্ত গ্রামে ২৫০ জনের বেশি মানুষ রয়েছে, সেগুলিকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মাধ্যমে জুড়ে ফেলা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি পৌঁছে দেওয়া হবে।
মহিলা:
  • সংবিধান সংশোধনী বিল এনে লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কংগ্রেস। ১৭তম লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রথম অধিবেশনে সংশোধনী পাশ করানো হবে। কেন্দ্র সরকারে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ করা হবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মহিলাদের হস্টেল ও যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকবে। শহর ও গ্রামে মহিলাজের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। স্কুল, কলেজ ও পাবলিক প্লেসে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন থাকবে। পঞ্চায়েতে অধিকার মৈত্রী পদ তৈরি করা হবে। তাঁরা মহিলাদের অধিকারকে সুনিশ্চিত করবেন।
স্বাস্থ্য:
  • স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মোট জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দ করা হবে ২০১৩-২৪ সালের মধ্যে। নম্বর ডায়াল করলেই ফ্রি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ভারতের সব রাজ্যের সব জেলায় এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। জাতীয় টেলিমেডিসিন পলিসি তৈরি করা হবে।
অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন:
  • এফডিআই, বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয়, রপ্তানিতে ফোকাস করা হবে। সব সেক্টরে এফডিআইকে অভ্যর্থনা জানানো হবে। স্টার্ট আপের ওপরে কর তুলে নেওয়া হবে। ভারতকে ইনোভেশন হাব হিসাবে তুলে ধরা হবে। দুর্বল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙা করার চেষ্টা করবে কংগ্রেস।
শিল্পায়ন:
  • নতুন শিল্প শহর গড়তে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করা হবে। মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড নীতি নিয়ে দেশি ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে তাতে বিনিয়োগে আহ্বান জানানো হবে। কোনও পরোক্ষ কর থাকবে না। ন্যূনতম কর্পোরেট কর দিতে হবে। উতপাদন শিল্পে দারুণ বৃদ্ধি তরান্বিত করা হবে। মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান হয় কৃষির পরেষ সেদিকে কংগ্রেস বিশেষ নজর দেবে। পর্যটন সংক্রান্ত ব্যবসায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
গৃহ:
  • শহরের দরিদ্রদের বাসস্থানের অধিকারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কংগ্রেস। গৃহহীনদের জন্য রাত্রিবাসে ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কাউকে আকাশের তলায় শুতে না হয়। বস্তিগুলিকে পানীয় জল, বিদ্যুত ও শৌচের পুরো ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও রাস্তা ও অন্য সংষ্কারও করা হবে।
বিদ্যুৎ:
  • গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুত পৌঁছে দিতে কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। প্রতিটি গ্রাম ও বাড়ি সত্যিই বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে। এলপিজির বদলে বিদ্যুত ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হবে।
তপশিলি জাতি/উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য:
  • তপশিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসি-র জন্য সরকারে যে শূন্য পদ রয়েছে তা পূর্ণ করা হবে। আদা সরকারি ও কেন্দ্রীয় সরকারি পদের শূন্যপদ ১২ মাসের মধ্যে পূর্ণ করা হবে। বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তপশিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসি-র জন্য সংরক্ষণ বিল আনা হবে।
মুদ্রাস্ফীতি:
  • জিএসটি নিয়ে পুনরায় ভাবনাচিন্তা হবে। নতুন সিস্টেম চালু করা হবে। যার ফলে প্রায় সব জিনিসের দাম আরও কমে আসবে। সাধারণ মানুষ আরও সুবিধা পাবেন।
দুর্নীতি দমন:
  • কোনও ভেদাভেদ ছাড়া দুর্নীতি বিরোধী আইন বলবত করবে কংগ্রেস। সরকারকে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য করে তোলা হবে। ইস্তেহারে যে প্রতিশ্রুতি কংগ্রেস দিচ্ছে তা প্রতি বছর মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে।
কর:
  • আমাদের সরকারের প্রথম বছরই ডিরেক্ট ট্যাক্স কোড চালু করব। বর্তমান জিএসটি আইন বদলে ফেলা হবে। আনা হবে জিএসটি ২.০। যার ফলে ভারতকে উতপাদনের নতুন কেন্দ্র হিসাবে তুলে ধরা যাবে।
অন্যান্য উদ্যোগ:
  • ন্যায় বা ন্যূনতম আয় যোজনা বলবৎ করা হবে। যার ফলে প্রতি পরিবার বছরে ৭২ হাজার টাকা করে পাবে। দ্য স্ট্রিট ভেন্ডার অ্যাক্ট ২০১৪ বলবৎ করা হবে। অজীবিকা কেন্দ্র তৈরি করা হবে। ট্রান্সজেন্ডার বিল ২০১৮ অবিলম্বে নাকচ করা হবে।
সিপিএম
দলের লক্ষ্য:
  • মূল লক্ষ্য বিজেপির জোটকে পরাস্ত করা। সিপিএমের ও বামেদের লোকসভায় শক্তি বাড়াতে কেন্দ্রে ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার গড়া নিশ্চিত করুন।
পরিকাঠামো:
  • পরিকাঠামো, যোগাযোগ, শক্তি, রেল, রাস্তা, বন্দর ও বিমান বন্দর খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে তুলব। রেল, ব্যাঙ্ক, বীমা, কয়লা, জলসম্পদে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ করব। ইন্টারনেটের সীমা বাড়াব। গ্রামীণ পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন করব।
শিক্ষা:
  • জনশিক্ষার প্রসার ঘটাব। স্কুল ও উচ্চ শিক্ষায় বিশেষ করে সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ করব। কমন স্কুল এডুকেশন সিস্টেম তৈরি করব। কেরল মডেলে স্কুলের প্রসার করব।
চাকরি ওকর্মসংস্থান:
  • সংবিধানের আইন হিসাবে কাজের অধিকার তৈরি করব। বেকারদের ভাতার ব্যবস্থা করব। জাতীয় যুব নীতি তৈরি করব। সরকারি দফতরের সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করব।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা:
  • আফস্পা প্রত্যাহার করব। বদলে সেনার জন্য অন্য আইন আনব। জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রত্যাহার করব বা বদল আনব। প্রতিরক্ষায় বেসরকারিকরণ রোধ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ রোধ করব। ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি বদলানো হবে।
কৃষি:
  • কৃষকরা যাতে ন্যূনতম সহযোগী মূল্যে ফসল বেচতে পারে তার ব্যবস্থা করব। যা উতপাদনের অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি দাম হবে। কম সুদে কৃষিক্ষেত্রে ঋণের ব্যবস্থা করব। কৃষিতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে দিনে ৬০০ টাকা করব।
কৃষক উন্নয়ন:
  • শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসে ১৮ হাজার টাকার কমে হবে না।
মহিলা:
  • সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ করব। মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে হিংসায় কড়া ব্যবস্থা নেব। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করব। ২৬ সপ্তাহের বেতন সহ মাতৃত্বকালীন ছুটি দেব। তিন তালাক আইন বাতিল করব।
স্বাস্থ্য:
  • বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেব। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেসরকারি বীমা বন্ধ করব। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করব। আয়ুষ্মান ভারত যোজনা বাতিল করব।
অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন:
  • প্ল্যানিং কমিশনকে ফিরিয়ে আনব। কর্মসংস্থান বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে চাহিদা বাড়ে। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কগুলির হাত মজবুত করতে হবে। আরবিআই এর স্বতন্ত্রতা রক্ষা করতে হবে। ও আর্থিক নিয়মকানুনের আধুনিকীকরণ করতে হবে।
শিল্পায়ন:
  • পাবলিক সেক্টরকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সঙ্গে প্রযুক্তি যোগ করতে হবে। উতপাদন শিল্পে বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। বস্ত্র, কার্পেট, হস্তশিল্প, চর্ম, হ্যান্ডলুম শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
গৃহ:
  • সমস্ত ধরনের সুবিধা সহ ঘর পাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব।
বিদ্যুৎ:
  • বিদ্যুতায়নে বিনিয়োগ বাড়াব। গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুত পৌঁছে দেব। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সংযোগ কৃষি ও সেচের জন্য ব্যবস্থা করব। বিদ্যুতে বেসরকারিকরণ কমিয়ে আনব।
তপশিলি জাতি/উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য:
  • চাকরি ও শিক্ষা তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের সংরক্ষণ। সংখ্যালঘুদের অধিকারকে সুনিশ্চিত করব ও বৈষম্য দূর করব।
মুদ্রাস্ফীতি:
  • পেট্রোলজাত পণ্যের দাম বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া বন্ধ করব। অন্য নীতি গ্রহণ করব। আবগারি ও শুল্ক কমাব পেট্রোপণ্যের ওপরে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণ করব। ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণ করব। দাম বাড়লে খাদ্যশস্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করব।
দুর্নীতি দমন:
  • দুর্নীতি বিরোধী আইন সংশোধন করব এবং লোকপালে সংশোধন আনব যাতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার আদানপ্রদানও এর আওতায় আসে। বেসরকারি অর্থক্ষেত্র, ব্যাঙ্কিং, বীমাকে এর আওতায় আনা হবে। সমল্ত পাবলিক-প্রাইভেট পার্চনারশিপকে লোকপালের আওতায় আনা হবে।
কর:
  • ধনী ও কর্পোরেটদের করের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অত্যন্ত ধনীদের সম্পত্তি কর দিতে হবে। ধনী, কর্পোরেট লাভ ও বিলাসবহুল সামগ্রী থেকে বেশি কর আদায় করতে হবে।
অন্যান্য উদ্যোগ:
  • ইউনিভার্সাল পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম তৈরি হবে যাতে প্রতি পরিবার ৩৫ কিলো করে শস্য পায়। বা মাথা পিছু সাত কিলো শস্য পায় ২ টাকা কেজি দরে। বিজেপি সরকারের নিয়োগ করা আরএসএসের লোক যারা সরকারের শীর্ষ পদে বসে রয়েছে তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। যারা ঋণ নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে তাদের দেশে ফেরত আনা হবে। পরিবার পিছু ৩৫ কিলো বা মাথা পিছু ৭ কিলো শস্য দেওয়া হবে ২ টাকা কিলোম দরে। ভোজ্য তেল, চিনি, শস্য কম দামে গণবণ্টনের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বছরে ১২টি গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তুকিযুক্ত দামে তুলে দেওয়া হবে। তাতে আধার সংযোগ করতে হবে না।
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more