কৈলাশ অতীত, বঙ্গ বিজেপির নতুন পর্যবেক্ষক খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব! কার নাম জল্পনায়
একুশের নির্বাচনে হেরে বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় পাত্তাড়ি গুটিয়েছেন। তিনি আর বাংলা-মুখো হননি। বিজেপিও একুশে ভরাডুবির পর বাংলায় পিছিয়ে চলেছে।
একুশের নির্বাচনে হেরে বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় পাত্তাড়ি গুটিয়েছেন। তিনি আর বাংলা-মুখো হননি। বিজেপিও একুশে ভরাডুবির পর বাংলায় পিছিয়ে চলেছে। গেরুয়া শিবিরকে টেনে তোলার মতো কেন্দ্রীয় নেতাকে পাচ্ছেন না মোদী-শাহরা। বঙ্গ বিজেপির জন্য আদর্শ এক পর্যবেক্ষক জোটাতে নাকাল হতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে।

কেন্দ্রীয় নেতারা রাজি হচ্ছেন না পর্যবেক্ষক হতে
একুশের ভোটে পর্যুদস্ত হওয়ার পর বিজেপি পুরভোট ও উপনির্বাচনেও গোহারা হয়েছে। এবার সামনে পঞ্চায়েত ভোট। আর তারপরই ২০২৪-এর মহারণ। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। আর ঘুরে দাঁড়াতে তাঁরা বাংলার জন্য একজন আদর্শ পর্যবেক্ষক চাইছেন। বঙ্গ বিজেপির পারফরম্যান্স দেখে কোনও কেন্দ্রীয় নেতা রাজি হচ্ছেন না বলে সূত্রের খবর।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কে মাথায় রেখে তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল অরবিন্দ মেননকে। পরবর্তী সময়ে আরও এক সহকারীর দায়িত্বে আনা হয়েছিল বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যকে। কৈলাশ ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছে। এবার আর অরবিন্দ মেনন আর অমিত মালব্যের উপর ভরসা রাখতে পারছে না বিজেপি।

সুনীল দেওধরের মতো পর্যবেক্ষক চাইছে বঙ্গ বিজেপি
বিজেপি চাইছে সুনীল দেওধরের মতো কাউকে বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষকের আসনে বসাতে। কিন্তু সূত্রের খবর সুনীল দেওধর বাংলার দায়িত্ব নিতে রাজি নন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাঁদের পাঠাতে চাইছেন বাংলায়, তাঁরাই বেঁকে বসছেন। প্রশ্ন উঠেছে কেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপির পালে হাওয়া বইছিল। ফলে তখন অনেকেই ভেবেছিল বাংলা জয় খুবই সহজ লভ্য। কিন্তু তা হয়নি। গত বিধানসভায় বাংলার বুঝিয়ে দিয়েছে এ বড় শক্ত ঠাঁই।

পরবর্তী পর্যবেক্ষকের নামের খোঁজে বিজেপি
বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, বাংলা জেতা যাবে না শুধু সুকান্ত-শুভেন্দুদের ভরসায়। আর তৃণমূল ভেঙেও সে অর্থে লাভ হবে না। বাংলার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। সেজন্য বঙ্গ বিজেপিতে পূর্ণ সময়ের জন্য পর্যবেক্ষক চাই। কিন্তু তেমন নেতৃত্বের অভাব বোধ করছে বিজেপি। কৈলাশকে বাংলায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অথচ পরবর্তী পর্যবেক্ষকের নাম জানাতে পারেনি বিজেপি।

সুনীল দেওধরের নাম নিয়ে জল্পনা
সুনীল দেওধর বঙ্গভাষী ত্রিপুরায় ভালো কাজ করেছিলেন। তাঁর হাত ধরেই ত্রিপুরায় লাল জমানার অবসান হয়েছিল। ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলার মিল খুঁজে তাঁকেই বিজেপি ভেবেছিল পর্যবেক্ষক হিসেবে। বিশ্বাস ছিল, তিনিই পারেন বাংলায় সর্বত্র পদ্ম ফোটাতে। কিন্তু তিনিও হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। আসলে সুনীল দেওধরের মতো সুদক্ষ নেতারা জানেন, বাংলায় জাতপাতের অঙ্কে বিভাজন ঘটানো খুব কঠিন কাজ। তাই এখানকার ভোট গো-বলয়ের মতো হবে না।

আদিবাসী ভোটের লক্ষ্যে বিজেপি
এখন জল্পনা শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের এক সাংসদের নাম নিয়ে। কোম কথা, সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ কোনও নেতাকেই বিজেপি দায়িত্ব দিতে চাইছে। বর্তমানে যিনি ত্রিপুরার দায়িত্বে রয়েছে সেউই বিনোদ সোনকারের নাম শোনা যাচ্ছে এই পদে। সেক্ষেত্রেও জাতপাতের অঙ্ক কষে বিজেপি নতুন পর্যবেক্ষকের নাম ভাবছে। সম্প্রতি আদিবাসী নেত্রী দ্রৌপদী মুর্মুকে বেছে নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে। সেই আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে যে এবার বিজেপি ভরসা বাড়াতে চাইছে, তা তাঁদের ভাবনাতেই প্রমাণ।

ভিনরাজ্যের নেতার উপরই ভরসা
সম্প্রতি বিজেপি বাংলায় এক ভিনরাজ্যের নেতাকে এনেছে এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসানসোলে বিরাট পরাজয়ের পর ভিনরাজ্যের সতীশ ধন্ডকে এনে পঞ্চায়েক নির্বাচনের আগে আসানসোলে কাজে নামিয়ে দিতে চাইছে। তাঁকে রাজ্য যুগ্ম সাধারণ সম্রাদক (সংগঠন)-এর পদ দিয়ে বিজেপি জানতে চাইছে কী করে আসানসোলে গেরুয়া শিবিরের ভিত নষ্ট হয়ে গেল। তাঁকে সংগঠনের দায়িত্ব দিয়ে নতুন কের আসানসোলকে শক্তিশালী করার প্রয়াস নিয়েছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications