বিশ্বকর্মা পুজো ২০২১ এর তারিখ, দিন, তিথি একনজরে, ভাদ্র সংক্রান্তিতে 'রান্না পুজো' নিয়ে চড়ছে উৎসবের আমেজ
বাঙালির বারো মাসে যেমন তেরো পার্বন, তেমনই তেরো প্রাবনের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। ভিন্ন পার্বণকে বাঙালি আলাদা আলাদা নামে অভিহিত করেছে। তেমনই এক প্রাবন রান্না পুজো। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিন পালিত হয় এই পুজো। অন্যদিকে, সেই দিনই বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজিত হয়। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ভাদ্র সংক্রান্তিতে আয়োজিত পুজোগুলির তারিখ ও বিভিন্ন বিধি।


বিশ্বকর্মা পুজো
সামনেই ১০ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী। তারপর রয়েছে বিশ্বকর্মা পুজো। ভাদ্র মাসে যে সমস্ত পুজো ও পার্বনের উৎসব রয়েছে, গণেশ চতুর্থী তার মধ্যে অন্যতম। এরপর রয়েছে বিশ্বকর্মা পুজো। বাগ্র মাসের সংক্রান্তির দিন পালিত হয় বিশ্বকর্মা পুজো। ২০২১ সালে বিশ্বকর্মা পুজোর তিথি ১৭ সেপ্টেম্বর রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারেও ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো। সেদিনই রয়েছে প্রদোশ একাদশী।

কন্যা সংক্রান্তির তিথি
ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিকে কন্যা সংক্রান্তি বলা হয়। এই বছর কন্যা সংক্রান্তি ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১ টা ২৯ মিনিটে শুরু হবে। এই দিনে রাহুকাল শুরু হবে সকাল ১০ টা ৪৩ মিনিটে। শেষ হবে ১২ টা ১৫ মিনিটে। জ্যোতিষবিদদের মতে রাহুকালকে ছেড়ে ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো করতে হবে। এরপর বিশ্ব কর্মাপুজোর সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ প্রাত শুরু হয় ৬ টা ০৭ মিনিটে। উল্লেখ্য, প্রযুক্তি থেকে যন্ত্রপাতির দেবতা হলেন বিশ্বকর্মা। এই দেবতার হাত ধরেই ধরিত্রীতে পুষ্পক বিমান, দ্বারিকা নগর, যমপুরী, কুবেরপুরী নির্মিত হয়েছে।

অরন্ধন , ভাদ্রের রান্না আশ্বিনে খাওয়া
এদিকে, বিশ্বকর্মা পুজো ছাড়াও ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে অরন্ধন বা রান্না পুজো সম্পন্ন হয়। এই বিশেষ পুজোর বিভিন্ন নামকরণ রয়েছে বাঙালির নিজের মতো করে। কোথাও একে বলা হয়, ইচ্ছা রান্না, কোথাও ধরাটে বা আটাশে রান্না বলা হয়। আর বিশ্বকর্মা পুজোর দিন যদি এই রান্না পজো সম্পন্ন হয়, তাহলে তার নাম হয় 'বুড়ো রান্না'। অরন্ধনকে অনেকেই মনসা পুজোর অংশ হিসাবে মনে করেন। ফলে যেখানে এই অরন্ধন পালিত হয় , সেখানে মনসা পুজোর ঘট বসিয়ে ফণিমনসা গাছের ডাল ঘটে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় রান্নার কাজ। এই অরন্ধনের হাত ধরে ভাদ্র মাসে রান্না করে তা আশ্বিন মাসে খাওয়ার রীতি রয়েছে। একে সংসারে শান্তি আসে ও সমৃদ্ধি আসে বলে জানা যায়।

ইলিশ থেকে কচুর শাক পড়ে পাতে!
যে মরশুমে যে ফল বা সবজি ও মাছ পাওয়া যায়, সেই মরশুমে সেই সবজি কেনা হয়। কেনা হয় মরশুমি মাছ। যেমন ভাদ্র মাসে ইলিশ পাওয়া যায়। ফলে ভাদ্র মাসে কেনা হয় ইলিশ। বলা হয়, সংক্রান্তিতে মা মানসাকে তুষ্ট করতেই এমন আয়োজন করা হয়। অরন্ধনের দিন সারা রাত ধরে রান্না চলে। এরপর ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে মা মনসাকে সেই রান্না উৎসর্গ করে খাওয়া হয়। উল্লেখ্য, শোনা যায়, বাংলার বুকে এককালে মা মনসাকে দুর্গার রূপ ভেবে পুজো করার রীতি প্রচলিত ছিল।


Click it and Unblock the Notifications
