অখণ্ড প্রদীপ জ্বালুন ঠাকুর ঘরে, জেনে নিন কৌশিকী অমাবস্যার পুজোর রীতিনীতি
অখণ্ড প্রদীপ জ্বালুন ঠাকুর ঘরে, জেনে নিন কৌশিকী অমাবস্যার পুজোর রীতি
জন্মাষ্টমী পেরোলেই শুরু হয়ে যাবে কৌশিকী অমাবস্যার তোরজোর। তারাপীঠের মন্দিরে ভিড় করবেন ভক্তরা। সেদিন সারাদিনই খোলা থাকে মন্দির। ভক্তরা এসে মাসের পুজো দেন। বিশেষ পুজো হয় সেদিন। এবছর সেপ্টেম্বর মাসেই হবে পুজোর অনুষ্ঠান। ৭ সেপ্টেম্বর পড়েছে কৌশিকী অমাবস্যা। তার জন্য তারাপীঠের মন্দিরে শুরু হয়ে গিয়েছে তোরজোর। তবে অনেকেই এই বিশেষ দিনটিতে বাড়িতেই কালীপুজো করে থাকেন।

কৌশিকী অমাবস্যা কবে
এবছর কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছে ৭ সেপ্টেম্বর। মঙ্গলবার। বিশেষ শুভদিন সেটি। শনি এবং মঙ্গলরাই বিশেষ করে কালীপুজো করা হয়ে থাকে। কথিত আছে, এই কৌশিকী অমাবস্যাতেই তারাপীঠের মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই বিশ্বাসেই কৌশিকী অমাবস্যাতে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীদের ভিড় করেন তারাপীঠের মন্দিরে। এবার অমাবস্যা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে পরের দিন বুধবার সকাল ৬টা ৩৬ মিনিট নাগাদ ছেড়ে যাচ্ছে অমাবস্যা।

কীভাবে করবেন পুজো
কৌশিকী অমাবস্যার কালীর বিশেষ পুজো করা হয়। এই বিশেষ দিনটিতে অনেকেই বাড়িতে কালীপুজো করেন। তবে উপাচারে কোনও ত্রুটি করা যাবে না। কারণ এই পুজোপ আয়োজনে সামান্য ত্রুটি হলেই নাকি মা কালী রুষ্ট হন। বাড়িতে যদি কেউ পুজো করতে চান তাহলে সারা দিন-রাত একটা ঘিয়ের প্রদীপ ঠাকুরের আসনের সামনে জ্বালিয়ে রাখুন। েসটা যেন কিছুতেই নিভে না যায়। খুব বেশি আয়োজন লাগে না পুজোয়। সামান্য আতপ চাল, একটা নারকেল, ১০৮ টি জবা ফুলের মালা এবং ঘি দিয়ে পুজো দিতে হয়

কৌশিকী অমাবস্যায় তন্ত্র সাধনা
এদিন অনেকেই তারাপীঠের শশ্মানে তন্ত্র ও গুপ্ত সাধনা করে থাকেন। সেকারণে তারাপীঠের এদিন ভিড় করেনঅনেক তন্ত্র সাধক। এই দিন নাকি তন্ত্র সাধনা এবং গুপ্ত সাধনা করলে ফল পাওয়া যায়। কৌশিকী অমাবস্যাকে 'তারা রাত্রি' বলা হয়ে থাকে। তন্ত্রের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তি দিয়ে এদিন সাধক স্বর্গ ও নরক যেকোনও দিকেই যেতে পারেন। তবে পুরোটাই নির্ভর করে সাধকের সাধনার উপর। অনেকেই এই সময় শশ্মানে পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে সাধনা করেন। শব সাধনার কথাও শোনা যায়। কাজেই কৌশিকী অমাবস্যা তান্ত্রিকদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে পুজো করলে মিলবে ফল
কৌশিকী অমাবস্যার দিন বাড়িতে কালীপুজো করলে বাড়ির ছাদে একটি কালো পাঁচ-মুখী প্রদীপ জ্বেলে রাখলে অপূর্ণ ইচ্ছে পূর্ণ হয়। এছাড়াও বলা হয়ে থাকে সন্ধের পর বট গাছের গোড়ায় তিন বার কালো তিল রাখলেও অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ হয়। সারাদিন উপোস করে পরের দিন ব্রাহ্মণ ভোজন করালেও ভাল ফল মেলে। কৌশিকী অমাবস্যার দিল কোনও কালী মন্দিরে খাঁড়া দান করলেও তার সুফল মেলে।












Click it and Unblock the Notifications