দোরগোড়ায় গণেশ চতুর্থী, কোন রাজ্যে কি ধরনের ভোগে সন্তুষ্ট বাপ্পা আসুন জেনে নেওয়া যাক
দোরগোড়ায় গণেশ চতুর্থী
আর কিছুদিন পরই দেশজুড়ে পালন করা গণেশ চতুর্থী। এ বছর ১০ সেপ্টেম্বর গণেশ উৎসব। ইতিমধ্যেই বাপ্পাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের ঘরে ঘরে বাপ্পার প্রিয় মিষ্টি মোদক তৈরি করা হচ্ছে। এ বছরও গত বছরের মতোই মহামারির পরিস্থিতির জন্য উৎসবে কাঁটছাঁট করা হয়েছে। প্রত্যেক বছরই গণেশ পুজো পালন করা হয় ৩ থেকে ১১ দিন ধরে, বাড়িতে ও মণ্ডপেও চলে গণোৎসব।

সেদ্ধ মোদকে সন্তুষ্ট দক্ষিণের গণেশ
দক্ষিণ ভারতে গণেশ পুজো পালন করার রীতি হল বাড়িতে থাকা গণপতিকে পুজো করা হয় অথবা মাটির মূর্তি কিনে এনে গণেশ চতুর্থীতে পুজো সম্পন্ন করে সেই মূর্তি বিসর্জন দিয়ে দেওয়া হয়। দেশের অন্যান্য প্রান্তে গণেশ চতুর্থীতে গণেশ জির পুজো করে ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগের মধ্যে মোদকও থাকে, তা ঐতিহ্যবাহী উকাদিচে মোদক হতে পারে, ভাজা মোদক বা নতুন যুগের পেড়া ও চকোলেট মোদকও হতে পারে। তামিলরা গণেশ পুজোর সময় কোয়াকাট্টাই বা সেদ্ধ মোদক তৈরি করেন, তাতে তাজা নারকেল, গুড় ও এলাচ পাউডার দিয়ে পুর দেওয়া হয়।

কর্নাটকে দেওয়া হয় লেমন রাইস
অন্যদিকে কর্নাটকের গণেশ চতুর্থীর একদিন আগে গৌরী হাব্বায় হুগি এবং চিত্রনা দেওয়া হয়। হুগি হল কারা পোঙ্গাল, যা চাল এবং মুগ ডাল দিয়ে তৈরি হয় এবং চিত্রনা হল ফোড়ন দেওয়া লেমন রাইস।

হরতালিকা তিজ
গণেশ চতুর্থী পালন করা হয় উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশে হরতালিকা তিজ নামে। এখানে গণেশ জিকে ভোগ হিসাবে ঘেওয়াড় বা প্যাড়া দেওয়া হয়।

মহারাষ্ট্রে গণেশ পুজোর ভোগ
মহারাষ্ট্রের সেরা উৎসব গণেশ পুজোতে এ রাজ্যের কিছু অংশের প্রিয় ভোগ হল সতোরি বা সঞ্জোরি। অভিনেতা, লেখিকা ও শেফ তারা দেশপাণ্ডে জানিয়েছেন যে আটা বা ময়দার মধ্যে সুজি ও দুধ দিয়ে তৈরি পুর ভরে লুচির মতো করে ভাজতে হবে অথবা টিকিয়া করে অল্প তেলেও ভাজা যায়। তিনি বলেন, 'নারকেলের নাড়ু ও গুল পুলিও গণেশ জিকে দেওয়ার রীতি রয়েছে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে, এ রাজ্যের অনেক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ভোগ দেখা যায়।' তবে তাঁর সবসময়ই পছন্দের ভোগ হল সেদ্ধ মোদক। তারা বলেন, 'আমরা এই সময় নারকেলের দুধ দিয়ে মিক্স সবজি বানাই, যেটাকে গজবজে বলি, যা দেওয়া হয় নৈবেদ্যর পর, গণেশ পুজোর পর প্রথম খাবার।'

শ্রীখণ্ড দেওয়া হয় পুনেতে
পুনের খাদ্য বিশারদ বৈশালী সাওয়ান্ত, যাঁর খাবারের পোস্ট ইনস্টাগ্রামে খুব জনপ্রিয়, তিনি বলেন, 'মিষ্টি এবং দইয়ের স্বাদযুক্ত শ্রীখণ্ড, যা জাফরান দিয়ে সাজানো হয়, প্রায়ই গণেশ উৎসবের সময় প্রসাদ হিসাবে দেওয়া হয়। আমরা তাণ্ডুলাচি ক্ষীর (ভাত), পুরানপোলি, নারকেলের বরফি এবং কলার শিরাও প্রস্তুত করি, খুবই সহজ একটি পদ্ধতি, কলাগুলোকে চটকে, তাতে সুজি, চিনি ও এলাচ গুঁড়ো ছিটিয়ে তৈরি করি।'

কঙ্কোণ ও গোয়ায় গণেশ জির ভোগ
কঙ্কোণ উপকূলে নারকেল ও গুড় দিয়ে পুর তৈরি করে তা চালের আটার মধ্যে ভরে রোল করে সেদ্ধ করা হয় যাকে পাথোলি বলা হয়। গোয়াতেও এই প্রসাদ দেওয়া হয়। এটা মোদকের মতোই তবে তা মোদক থেকে একে আলাদা করে এর মধ্যে থাকা তাজা হলুদ পাতার মৃদু সুবাস। করণজি এবং নেভ্রিস - মহারাষ্ট্রের করণজির গোয়ান অবতার, এটি প্রসাদ হিসাবে দেওয়া হয়। নারকেল কোরা এবং শুকনো ফল দিয়ে ভরা, তেলে ভাজা হয়, গুজিয়ার মতোই মুড়মুড়ে পেস্ট্রি।

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ভোগ
দক্ষিণ ভারতে গণেশ উৎসবের সময় কোয়াকাট্টাই (সেদ্ধ মোদক), যা সুজি, মুগ ডাল, গুড়কে নারকেলের দুধ ও ঘিয়ের মধ্যে রান্না করা হয় এবং তা অর্পণ করা হয় ঠাকুরকে। এই ভোগ নিবেদন হয় পিল্লাইয়ার চতুর্থীতে। এছাড়াও দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে নেয়িয়াপ্পাম, উসিলি কোয়াকাট্টাই, উন্দ্রালু সহ বেশ কিছু ভোগ নিবেদন করা হয় গণেশ উৎসবে। তবে সব যে মিষ্টি তা নয়, কিছু কিছি নোনতা খাবারও এর সঙ্গে অর্পণ করা হয় দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে।
খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia












Click it and Unblock the Notifications