পঞ্জশির দখলে আসার পরেই অবশেষে নিজেদের নেতার নাম ঘোষণা করল তালিবানরা। অবশেষে আফগানিস্তানে সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করেছে তারা। কে নেতৃত্ব দেবেন সেই সরকারের তার নামও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। মৌলা মহম্মদ হাসান আকুন্দকে তাঁরা দেশের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর আগামিকাল অর্থাৎ বুধবারই তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে আফগানিস্তানে সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করবে এবং সেদিনই তাঁরা দেশের শাসকের নামও ঘোষণা করবেন।
পঞ্জশিরে েশষ পেরেকটা পুতে ফেলেছে তালিবানরা। তারপরেই শুরু হয়ে গিয়েছে সরকার গঠনের প্রস্তুতি মনে করা হচ্ছে আগামিকাল অর্থাৎ বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করবে তারা। এর আগে পর পর দুবার সরকার গঠনের কথা জানিয়েও সেটা করে উঠতে পারেনি তারা। পিছিয়ে দিয়েছিল। পঞ্জশির দখলের অপেক্ষাতেই বসেছিল তারা। সূত্রের খবর আফগানিস্তানে নাকি ঘটা করে সরকার গঠন করবে তালিবানরা। সেই অনুষ্ঠানে চিন, পাকিস্তান, রাশিয়া,কাতার, তুরস্ককেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে তালিবানরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চিন এবং পাকিস্তানই প্রথম তালিবানদের সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। জানা গিয়েছে পঞ্জশির দখলে নাকি পাক সেনা সাহায্য করেছে তালিবানদের।
সরকার গঠনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশের নেতাকেও বাছাই করে নিয়েছে তারা। মৌলা মহম্মদ হাসান আকুন্দকে দেশের নেতার আসনে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। রাষ্ট্রপুঞ্জের জঙ্গি তালিকায় রয়েছে এই আকুন্দের নাম। কান্দাহারে জন্ম এই তালিবান নেতার। তালিবানদের সিদ্ধান্তগ্রহনকারী কোর কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন আকুন্দ। তালিবানদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে একজন এই নেতা। অত্যন্ত রক্ষণশীল ধর্মীয় গোঁড়া নেতা বলেই সংগঠনে পরিচিত তিনি। কাজেই আকন্দ দেশের শাসকের আসনে বললে আফগান নারীদের আরও দুরবস্থা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Advertisementএকা আকুন্দ নন। তাঁকে সহযোগিতা করতেও দুই নেতার নাম বাছাই করা হয়েছে। মৌলা বরাদার এবং মৌলা আবদুস সলাম নামে দুই নেতা আকুন্দকে সহযোগিতা করবে সরকার পরিচালনার কাছে। এছাড়া ধর্মীয় দিকটি দেখাশোনার জন্য মৌলা আখানজাদার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্রের খবর আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে সিরাজ জুদিন হাক্কানিকে। তিনি হাক্কানি নেটওয়ার্কে প্রভাবশালী নেতা। যিনি পাকিস্তানের সুবিধার্থে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আগে। এক্ষেত্রে ভারতের চাপ বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
পঞ্জশির অনেক কসরত করে দখলে নিয়েছে তালিবানরা। প্রথম থেকেই নর্দান অ্যালায়েন্স প্রবল প্রতিরোধ গড়েতুলেছিল তালিবানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারেনি। নর্দান অ্যালায়েন্সের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তাতে পাত্তা দেয়নি তালিবানরা। পরপর বোমা বর্ষণ শুরু করে তারা পঞ্জশিরে। শেষ পর্যন্ত তা দখলে নিতে পেরেছে তারা। তারপরেই পঞ্জশির দখলে এসে গিয়েছে তালিবানদের।