Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

উপনির্বাচনে লড়াই নাকি বামফ্রন্ট প্রার্থীকে সমর্থন, বৈঠকই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস

  • By: Oneindia Bengali Digital Desk
Subscribe to Oneindia News

কলকাতা, ২২ অক্টোবর : কোন ডাল ধরবেন অধীর চৌধুরী, স্থির করতে পারছে না কিছুতেই। দলের এই কঠিন সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, তা স্থির করতে গিয়ে একেবারে হিমশিম অবস্থা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। তাই তড়িঘড়ি প্রদেশ কমিটির বৈঠক ডাকলেন তিনি। উপনির্বাচনে দলের অবস্থান ঠিক করতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করছেন তিনি। বলাই যায়, অধীর চৌধুরীর এই মনোভাব তাঁর বিলম্বে বোধোদয়।

যাই হোক তিনি এখন সবার সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতেই পছন্দ করছেন। কিন্তু কিছুদিন আগেও যদি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দলের নেতাদের একটু গুরুত্ব দিতেন তাহলে কংগ্রেসে এই ভাঙন হয়তো আসত না। প্রবল শক্তি নিয়েই তৃণমূলের মোকাবিলা করতে পারত কংগ্রেস। বিধানসভাতেও প্রবলতর প্রতিপক্ষ হতে পারত। রাজ্যের দ্বিতীয় দল হয়ে যখন শক্তি বাড়ানোর মতো সমস্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে দলকে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে।

উপনির্বাচনে লড়াই নাকি বামফ্রন্ট প্রার্থীকে সমর্থন, বৈঠকই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন তাই বড্ড বেশি লিলিপুট মনে হচ্ছে জাতীয় কংগ্রেসকে। সে যাই হোক, এখন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব বিপাকে পড়েছে রাজ্যে আসন্ন উপনির্বাচনে দলের অবস্থান নিয়ে। কী হবে এই নির্বাচনে তাদের ভূমিকা? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নিতে পারেননি তিনি। বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। উপনির্বাচন নিয়ে কার্যত দ্বিধাবিভক্ত বিধানভবন৷ আসন্ন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, না কি তিন কেন্দ্রে প্রার্থী না দিয়ে বামেদের দিকে পরোক্ষে জোটের বার্তা দেওয়া- কোনটা ঠিক হবে?

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির মনে যে দ্বন্দ্ব চলছে, এদিন বৈঠকেও পক্ষে-বিপক্ষে তা নিয়ে জোর সওয়াল চালালেন নেতা-নেত্রীরা। এই বৈঠক থেকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারল না কংগ্রেস। আগেই অধীরবাবু ঘোষণা করেছিলেন, কংগ্রেস এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না, যাতে আসন্ন নির্বাচনে প্রভূত সুবিধা পেয়ে যায় তৃণমূল বা বিজেপি। পক্ষান্তরে তাঁর কথায় উঠে এসেছিল বামেদের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা। এবার সরাসরি জোট না করে, বাম প্রার্থীকেই সমর্থন করা। সেক্ষেত্রে বিরোধী ভোট ভাগ হবে না। তৃণমূল বাড়তি সুবিধাও পাবে না।

কিন্তু একটা নির্বাচন হবে, সেখানে কংগ্রেসের প্রার্থী থাকবে না। হাত চিহ্নের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। কর্মী-সমর্থকদের উপর তাহলে একটা খারাপ প্রভাব পড়বেই। বিশেষ করে এই খারাপ সময়েও যাঁরা কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনও প্রতীকে ভোট দেন না বা ভোট দিতে গেলে তাঁদের না, তাঁরা কী করবেন? তাঁদের তো বাধ্য করা হবে- হয় তৃণমূলে নতুবা বিজেপিতে ভোট দিতে। কেননা তাঁরা কোনওভাবেই সিপিএম বা বামফ্রন্টকে ভোট দেবেন না।

একবার অন্য প্রতীকে ভোট দেওয়ার পরে কংগ্রেসের সাংগঠনিক এই করুণ অবস্থায় আর তাঁদের জাতীয় দলমুখো করা যাবে কি? সেক্ষেত্রে একটা মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে কংগ্রেসের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। তাই একাংশের যুক্তি, শক্তি কম থাকলেও তিন কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়ে লড়াই করাই শ্রেয়। তাঁদের ধারণা, নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলে তা সাংগঠনিক স্তরে তো বটেই, রাজনৈতিকভাবেও অস্তিত্বের সংকট আরও তীব্র হবে। অপর অংশের যুক্তি, তমলুক ও কোচবিহার লোকসভা এবং মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের সাংগঠনিক শক্তি সামান্য।

এই পরিস্থিতিতে লড়াই থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখলে তেমন বড় ক্ষতি হবে না। ভোটে লড়তে গেলে একটা বড় অঙ্কের খরচও আছে। ভোটে না লড়লে সেই তহবিলটাও রক্ষা করা যাবে। এই দুই যুক্তির মাঝে পড়ে একপ্রকার হাঁসফাঁস অবস্থা অধীরবাবুর। তিনি তাই তড়িঘড়ি ফের বৈঠক ডেকেছেন। আগামী সোমবার এই বিশেষ বৈঠকে দুই পূর্বসূরি সোমেন মিত্র ও প্রদীপ ভট্টাচার্যের কাছে তিনি জানতে চাইবেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর কী করা উচিত।

পরিষদীয় দলের উপনেতা নেপাল মাহাতো, বিধায়ক অসিত মিত্র, সাংসদ মৌসম বেনজির নুর, আবু হাসেম খান চৌধুরী, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন সাংসদ দীপা দাশমুন্সি-সহ অন্যান্য রাজ্য নেতাদেরও ডাকা হয়েছে বৈঠকে। পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার ও বর্ধমানের জেলা সভাপতিদেরও ডাকা হয়েছে। কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান রবিবার দিল্লি যাচ্ছেন। তাই তিনি বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন না। তিনি তাঁর মত ইতিমধ্যেই প্রদেশ সভাপতিকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন ওইদিন সর্বসম্মতভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে- দল উপনির্বাচনে অংশ নেবে, নাকি বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থ করবে।

English summary
What congress will do in by Election, decision would be taken in meeting
Please Wait while comments are loading...