Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

বাড়ির মেয়ের মতোই বেনারসী ও অলঙ্কারসজ্জায় কালীপুজোর রাতে সেজে ওঠেন মা ভবতারিণী

  • By: Oneindia Bengali Digital Desk
Subscribe to Oneindia News

ভবতারিণী মায়ের পরনে বেনারসী। অঙ্গসজ্জায় খাঁটি সোনার অলংকার। একেবারে বাড়ির মেয়ের সাজে সুসজ্জিত দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী। শ্রীরামকৃষ্ণদেব প্রদর্শিত পথেই দেবীর আরাধনা। ১৬২তম বর্ষে পড়ল রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের এই পুজো। পুজোর দিন ভোরে বিশেষ মঙ্গল আরতিই পুজোর প্রধান আকর্ষণ। এই আরতি দেখতে ভোররাত থেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমান ভক্তরা। এবারও তার অন্যথা হল না। রাতের কালী পুজো দেখতেও ভক্তদের ঢল নামল বিকেল গড়াতেই।

কালীপুজোর রাতে ভবতারিণী মায়ের জাঁকজমকপূর্ণ পুজো, ভক্তবৃন্দের বিপুল সমাগম তো আছেই, সেইসঙ্গে পুজোয় আছে নানাবিধ ভোগ-উপাচার। এই বিশেষ দিনটিতে সারাদিন মন্দির খোলা থাকে। দুপুরে মায়ের ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয় সাদা ভাত, ঘি ভাত, পাঁচরকম ভাজা, শুক্তো, পাঁচরকম মাছের পদ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। আর রাতে পুজোপর্ব মেটার পর মাকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়।

বাড়ির মেয়ের মতোই বেনারসী ও অলঙ্কারসজ্জায় কালীপুজোর রাতে সেজে ওঠেন মা ভবতারিণী

এবারও ভক্তদের পুজো দর্শনের জন্য মন্দির চত্বরে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। ভক্তদের ঢল আটকাতে ব্যারিকেডের বহরও বাড়ানো হয়েছে। মন্দির চত্বরের বাইরে পুলিশ ফাঁড়িতে বসছে বিশেষ কন্ট্রোলরুম। নিরাপত্তা বজ্র আঁটুনি রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশের পাশাপাশি গঙ্গায় থাকছে পুলিশের স্পিড বোট। এই দিনটিতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এই কালীমন্দিরে আসেন মাকে দর্শন করতে। রাতভর ভক্তরা থাকেন কালীপুজো দেখার জন্য।

দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরে নিরাপত্তার কারণেই ভক্তিগীতির আসর আর বসছে না। কালীপুজোকে ঘিরে দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছে আলোকমালায়। আলোর উৎসবে আলোকিত এই দেবালয় সকাল থেকেই ভক্তসমাগমে জমজমাট। লক্ষ্য বিশেষ দিনে মায়ের দর্শনে পুণ্যার্জন।
এই মন্দিরটি দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে নির্মাণ করেন রানি রাসমণি। কথিত আছে, ১৮৪৭ সালে কাশীধামে যাত্রা করবেন বলে মনস্থ করেছিলেন তিনি। আগের রাতে স্বপ্ন দেখেন, 'দেবী তাঁকে বলছেন, কাশী যাওয়ার প্রয়োজন নেই। গঙ্গাতীরেই আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো কর। সেই মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েই আমি তোর পুজো গ্রহণ করব। তারপর গঙ্গতীরে জমি ক্রয় করে রানি রাসমণি মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করে দেন অনতিবিলম্বে।

১৮৪৭ সালে এই বিরাট মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু হয়। শেষ হয় ১৮৫৫ সালে। এই মন্দিরের প্রথম প্রধান পুরেহিত ছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়। রামকুমারের মৃত্যুর পর পরমহংসদেব দাদার স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীকালে তিনি এই মন্দিরকেই তাঁর সাধনক্ষেত্ররূপে বেছে নেন। তাঁর সহধর্মিনী সারদা দেবী মন্দির চত্বরের বাইরে নহবতখানায় থাকতেন। এই নহবতখানাই এখন সারদা দেবীর মন্দির। এই সময় থেকে ১৮৮৬ পর্যন্ত প্রায় তিরিশ বছর শ্রীরামকৃষ্ণ এই মন্দিরে অবস্থান করেন। তাঁর অবস্থানের কারণে মন্দিরটি তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়।

দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি চত্বরে কালীমন্দির ছাড়াও একাধিক দেবদেবীর মন্দির অবস্থিত। মূল মন্দিরটি নবরত্ন মন্দির। স্থাপত্যধারায় নির্মিত এই মন্দিরটি তিনতলা। উপরের দুটি তলে মন্দিরের নয়টি চূড়া রয়েছে। দক্ষিণমুখী মন্দিরের একটি দালানের উপর গর্ভগৃহটি স্থাপিত। এই দালানটি ৪৬ বর্গফুট প্রসারিত ও ১০০ ফুট উঁচু। রয়েছে 'দ্বাদশ শিবমন্দির' নামে পরিচিত বারোটি আটচালা শিবমন্দির। মন্দিরের উত্তরে রয়েছে 'শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মন্দির' নামে পরিচিত রাধাকৃষ্ণ মন্দির এবং দক্ষিণে রয়েছে নাটমন্দির।

English summary
Goddess Bhavataraini puja at Dakshineswar Kali Temple on Diwali
Please Wait while comments are loading...