Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

রাজ্যে ছ’বছর মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তবে নারী নির্যাতনে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম কেন?

Subscribe to Oneindia News

কলকাতা, ১৭ ডিসেম্বর : প্রায় ছ'বছর ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা। তা সত্ত্বেও নারী নির্যাতনে আমাদের রাজ্য দেশে প্রথম স্থানে। কেন এমন হবে? প্রশ্নটা উঠে পড়েছে অনেক আগে থেকেই। আবার সেই প্রশ্নটাই মনে খচখচ করছে ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্টটা সামনে আসতেই।

২০১৫-১৬ সালের ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্টে প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গ নারী নির্যাতনে প্রথম। একবার তাকানো যাক ছবিটার দিকে। ২০১৫ সালে সারা দেশে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মোট ৩ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৯৪ টি মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে ৩৩ হাজার ২১৮টি মামলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই সংখ্যাটা দেশের মধ্যে ১০.৫ শতাংশ।

রাজ্যে ছ’বছর মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তবে নারী নির্যাতনে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম কেন?

কী ধরনের নির্যাতনে এই মামলা?

ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো বা এনসিবি-র রিপোর্ট বলছে, বৈবাহিক হিংসার সংখ্যা ২০ হাজার ১৬৩, যা অপরাধের সংখ্যার নিরিখে সারা দেশের শীর্ষে। পণের কারণে নারী মৃত্যুর ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এক বছরে ৪৯৮টি। সারা দেশের নিরিখে দিল্লি এক নম্বরে, পশ্চিমবঙ্গ দুয়ে। আবার আত্মহত্যার প্ররোচনায় নারীর মৃত্যু হয়েছে ২৩৩টি, যাতে রাজ্যের স্থান সপ্তম।

রাজ্যের হিসাবটা আলাদা করে দেখলে আরও স্পষ্ট হবে বিষয়টি। গত দশ বছরে রাজ্যে বৈবাহিক হিংসার ঘটনা বেড়েছে ১৯০.৪৫ শতাংশ। অথচ সারা ভারতে এই বৃদ্ধির হার ৯৪.৪৫ শতাংশ। ২০০৫ সালে যেখানে রাজ্যে ৬ হাজার ৯৩৯টি বৈবাহিক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে ২০১৫ সালে এই অপরাধ প্রবণতা তিনগুণের বেশি বেড়েছে।

২০১৫-১৬ সালে বৈবাহিক হিংসার সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১৬৩টি। পণের কারণে মৃত্যুর হার রাজ্যে বেড়ে হয়েছে ১১.৬৬ শতাংশ। ভারতে বেড়েছে ১২.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে। নারী নির্যাতনের এমন বহু ক্ষেত্র আছে যেখানে গত পাঁচ বছরে তার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিচার পেয়েছে কম।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এই হিসাব থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে। কিন্তু প্রকৃত অর্থেই এর তিন চারগুণ বেশি ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থানায় পৌঁছতে পারেন না। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আইন আদালত করবে এমন মানুষ পাওয়া যায় না। আবার থানা অভিযোগ নেয় না তাড়িয়ে দেয়- এমন সংখ্যাও প্রচুর। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর অনেকাংশেই তা নির্ভর করে।
নির্যাতিতদের কাছে ভয়ের হয়, যখন অপরাধী শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

কিংবা অপরাধী যদি শাসকদলের কোনও নেতাকে ম্যানেজ করে নিতে পারে, তবে ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। নির্যাতিতাকে চাপ দেওয়া হয় মুখ না খোলার। টাকা পয়সা নিয়ে মিটিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়। বা বিচারসভা বসিয়ে জোড়াতালি দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয় সমস্ত অপরাধ। কথা না শুনলে এলাকায় বাস করতে পারবে না পুলিশ প্রশাসন সব আমাদের হাতে, এমন হুমকির মুখেও পড়তে হয় নির্যাতিতার পরিবারকে।

এখানেই সেই প্রশ্নটা উঠে পড়েছে। রাজ্যে প্রায় ৬ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন একজন মহিলা। একজন মহিলাই মহিলাদের যন্ত্রণা ভালো বোঝেন। সে ক্ষেত্রে আশা করা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপে নারী নির্যাতন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কিন্তু আদতে তা হয়নি। উল্টে বেড়েছে নারী নির্যাতনের ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাসকদল কোনও না কোনওভাবে জড়িত। কেন শাসকদল জড়িয়ে পড়ছে এমন অপরাধমূলক ঘটনায়?

রাজ্যে পরিবর্তন আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মহিলা থানা গড়েছেন। থানায় মহিলা কনস্টেবল নিয়োগে জোর দিয়েছেন। অবশ্যই বলতে হবে ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হাতে মোকাবিলা করেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাজ্যকে একটা উন্নতির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, এটা অনস্বীকার্য। কিন্তু দলের নিচুতলার কর্মীরা যে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছেন, সেদিকটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী। অনেক ক্ষেত্রেই তাই মাঠ মারা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ। বলা যায় নিস্ফলা হয়ে যাচ্ছে অনেক শুভ উদ্যোগ।

English summary
During last six years a female Chief Minister is ruling of the state. Why West Bengal is the first position in country for woman-torture?
Please Wait while comments are loading...