নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় 'আত্মঘাতী বিস্ফোরণে' নিহতদের সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

  • Posted By: BBC Bengali
Subscribe to Oneindia News
মৌলভীবাজারে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষে সাত জনের মৃতদেহ পায় পুলিশ, সাত জনই 'আত্মঘাতী বিস্ফোরণে' নিহত।
BBC
মৌলভীবাজারে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষে সাত জনের মৃতদেহ পায় পুলিশ, সাত জনই 'আত্মঘাতী বিস্ফোরণে' নিহত।

বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত সাত জনের মৃতদেহ শনাক্ত করেছেন তাদের স্বজনেরা।

পুলিশ বলছে, স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

ওই জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণের একজন পুরুষ সহ সাত জন নিহত হন।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বিবিসিকে জানিয়েছেন, "স্বজনেরা কদিন ধরে দাবি করছিলেন, তবে আজ তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে পাঁচ মেয়ে ও স্ত্রীসহ লোকমান হোসেন তাদেরই পরিবারের সদস্য"।

কিন্তু মৃতদেহ শনাক্ত করলেও সেগুলো নিয়ে যাবেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

নাসিরপুরের ওই জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানের মধ্যে বিস্ফোরণে নিহত হয় ওই সাতজন।

পুলিশ তখনই জানিয়েছিল, গ্রেফতার এড়াতে সন্দেহভাজন ঐ জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটান এবং তাতে তাদের দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নাসিরপুরের ওই বাড়িতে মোট চারটি শিশুর মৃতদেহ পেয়েছিল পুলিশ, যাদের বয়স কয়েক মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত।

নিহতের মৃতদেহ নেবে না স্বজনেরা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক দাবি করেছিলেন, নাসিরপুরে নিহত সাতজন হলেন তার স্বজন - মেয়ে, মেয়ের জামাই ও পাঁচ নাতনি।

নাসিরপুরে নিহতদের মধ্যে একমাত্র পুরুষ লোকমান হোসেনের পরিচয় সম্পর্কে জানা যাচ্ছিল।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইসমাইল হোসেন জানান "আবু বকর সিদ্দিকি দাবি করছিলেন গত বুধবার রাতে তাঁর মেয়ে শিরিনা তাঁকে ফোন করে ক্ষমা চাচ্ছিলেন। বলছিলেন ভুল-ত্রুটি থাকলে মাফ করে দিতে"।

ওইদিন ভোরেই নাসিরপুরের ওই জঙ্গি আস্তানা ঘিরে অভিযান চালায় সোয়াট ও পুলিশের কাউন্টার-টেরোরিজম ইউনিট।

আবু বকর সিদ্দিক পুলিশকে জানান, লোকমানের স্ত্রী শিরিনা আক্তার তাঁর মেয়ে। তবে তার মেয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে কোথায় আছে, কেমন আছে, তার কিছুই তাদের জানা ছিল না। কারণ অনেক বছর ধরেই তাদের যোগাযোগ ছিল না।

এরপর নাসিরপুরে নিহতদের মৃতদেহ শনাক্তের জন্য সোমবার সকালে আবু বকর সিদ্দিকসহ কয়েকজন মৌলভীবাজারে যান।

জঙ্গিবিরোধী অভিযান
BBC
জঙ্গিবিরোধী অভিযান

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, "মৃতদেহগুলো ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। তাই সেগুলো দেখে প্রথমে চিনতে পারেননি স্বজনেরা। তবে নিহতদের ঘরে যে ছবি ছিল এবং ভাড়া নেয়ার সময় যে পরিচয়পত্র নিহতরা ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলো দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, নিহত সাতজনই তাদের স্বজন"।

তাছাড়া ঘটনার আগে লোকমান হোসেনের স্ত্রী তার পরিবারকে ফোন করেছিলেন ওই ঘটনাস্থল থেকে সেটিও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

মৃতদেহ শনাক্তের আগে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আবু বকর বলেছিলেন তিনি তার মেয়ে ও নাতনিদের মৃতদেহ ফিরিয়ে নিতে চান।

কিন্তু এখন পুলিশ জানাচ্ছে তারা মৃতদেহ নেবেন না। এর কারণ কী?

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বলছেন "তাদের জিজ্ঞেস করার পর তারা বললো কারো লাশ নেবে না। মানবিক দিক বিবেবচনায় শিশুদের লাশগুলো নেয়ার কথা বলার পর তারা বলে যে এটা কলঙ্কজনক স্মৃতি, আমরা এটা ধরে রাখতে চাই না"।

নিহত লোকমান হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

নাসিরপুরে জঙ্গি অভিযান শেষে নিহত সাত জনের মৃতদেহ পাবার পর পুলিশ ধারণা করছিল এরা একই পরিবারের সদস্য।

শিরিনা আক্তারের বাবা আবু বকর সিদ্দিকের দাবি অনুযায়ী লোকমান হোসেন তাঁর স্ত্রী শিরিনা আক্তার ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে নাসিরপুরের ওই বাড়িটিতে থাকতেন।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইসমাইল হোসেন জানান, "লোকমান হোসেন ও শিরিনা আক্তার দুজনের বাড়িই ঘোড়াঘাটে । কিন্তু ২০০৮ সালে পরিবার-পরিজন সহ ওই এলাকা ত্যাগ করে লোকমান। সেসময় তাদের দুটি মেয়ে ছিল"।

পুলিশের ভাষ্যমতে, পরিবারের তথ্য অনুযায়ী ১৪/১৫ বছর বয়সেই শিরিনার বিয়ে হয় লোকমানের সঙ্গে।

"ওই এলাকা ছাড়ার পর মাত্র দু'বার ঘোড়াঘাট নিজের বাপের বাড়িতে এসেছিল শিরিনা। কিন্তু কারো সাথেই কোনো যোগাযোগ ছিল না, পরিবারের বাবা-মা ভাইবোনদের এমনই ভাষ্য" জানান মি: হোসেন।

এছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় ২০০৮ সালে করা সন্ত্রাসবিরোধী একটি মামলার আসামী ছিলেন লোকমান হোসেন।

BBC
English summary
Who died in Nasirpur suicidal blast
Please Wait while comments are loading...