আংশিকভাবে চালু হলো রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ

  • By: আহ্‌রার হোসেন - বিবিসি বাংলা, ঢাকা
Subscribe to Oneindia News

টানা বর্ষণের কারণে সৃষ্ট প্রাণঘাতী এক পাহাড়ধসে বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ আটদিন বন্ধ থাকার পর আজ তা আংশিকভাবে চালু করা গেছে।

রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়ক নামে এই পাহাড়ী সড়কটির কয়েকশো মিটার ধসে পড়ে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে বাংলাদেশের পাহাড় অধূষ্যিত জেলায়গুলোয় যে ভূমিধস শুরু হয় তাতে কয়েকটি জেলায় প্রায় দেড়শর মত মানুষ প্রান হারায়।

এর মধ্যে শুধুমাত্র রাঙামাটি শহরেই নিহতের সংখ্যা ১১৮ জন।

চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত আশি কিলোমিটারের কিছু বেশী দীর্ঘ সড়কটি পাহাড়ী, বিপদসঙ্কুল।

গত সপ্তাহের ভূমিধসে এই সড়কটির সাতছড়ি শালবাগান এলাকার একটি ছোট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পাহাড়ের ঢালে থাকা সড়কের দুইশ মিটারেরও অধিক অংশ প্রায় অর্ধশত ফুট গভীরে দেবে যায়।

সেই থেকে রাঙামাটির সাথে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

এ কদিন রাঙামাটিতে পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ছিল, জলপথে কাপ্তাই লেক হয়ে। আর জনসাধারণ চলাচল করেছে যানবাহনে সড়কের ভাঙা অংশের কাছে এসে পায়ে হেটে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে।

তবে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মনজুরুল মান্নান বলছেন, আটদিন ধরে সড়কটি মেরামত করে আজ দুপুরবেলা আংশিকভাবে এটিকে খুলে দেয়া হয়েছে এবং শুধুমাত্রা হালকা যানবাহন চলতে দেয়া হচ্ছে।

মি. মান্নান জানাচ্ছেন, এখন তারা একটি বেইলি সেতু বানাচ্ছেন সড়কের ভাঙা অংশের ওপর দিয়ে। সপ্তাহ খানেক লাগবে সেটি বানাতে। তারপর সেই বেইলি সেতুর উপর দিয়ে সীমিত আকারে ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারবে।

তবে সড়ক পুরোপুরি মেরামত করাটা আগামী এক মাসের কম সময়ের মধ্যে সম্ভব হবে না বলে জানান মি. মান্নান।

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ঘটনা নতুন নয়। ছবিটি ২০১২ সালের জুন মাসের অন্য একটি পাহাড় ধসের - যাতে প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
AFP
চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ঘটনা নতুন নয়। ছবিটি ২০১২ সালের জুন মাসের অন্য একটি পাহাড় ধসের - যাতে প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক তানিম আশরাফ ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢালে সড়কের খুব সরু একটি লেন খুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে থেকে অতি ধীর গতিতে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ছোট গাড়ি অতিক্রম করছে।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে প্রহরা দিচ্ছেন। এর মধ্যেই শ্রমিকেরা বালির বস্তা ফেলে সড়কটিকে আরো মজবুত করার প্রচেষ্টায় আছেন।

সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এবং সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত।

তবে স্থানীয় সাংবাদিক সুনীল দে বলছেন, এখন যে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে বেইলি ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে তাতে পণ্য পরিবহন ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল পরিস্থিতির কতদূর কী উন্নতি হবে তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে।

অবশ্য কাপ্তাই লেক হয়ে নৌপথে একদিন যোগাযোগ সচল থাকায় রাঙামাটিতে নিত্যপণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি জানা যাচ্ছে।

বিকল্প পথে পরিবহনের জন্য পণ্যমূল্য যাতে না বেড়ে যায় এজন্য সরকারিভাবে নৌপরিবহনের ভাড়া ও জ্বালানির মূল্যও পরিশোধ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন।

এদিকে রাঙামাটিতে প্রশাসন উদ্ধার অভিযান থামিয়ে দিলেও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু রেখেছে। সেখানে সরকারি উদ্যোগে দুবেলা খাদ্য দেয়া হচ্ছে আশ্রয়প্রার্থীদের।

জেলা প্রশাসন বলছে, প্রতিদিন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। আজ দুপুরেও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তিন সহস্রাধিক মানুষকে খাওয়ানো হয়েছে, অথচ দুতিনদিন আগেও এখানে অর্ধেক আশ্রয়প্রাথী ছিল।

টানা বৃষ্টি হওয়ার কারণে মানুষজনের মধ্যে ভুমিধসের আতঙ্ক প্রতিদিনই বাড়ছে বলে একটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

তবে রাঙামাটিতে কী পরিমাণ মানুষ গৃহহীন হয়েছে তার কোনো পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

একটি প্রাথমিক ধারণা রয়েছে যে এই সংখ্যা সহস্রাধিক হতে পারে। নিহতের সংখ্যা সর্বশেষ ১১৮ জনই।

তবে উদ্ধার অভিযান থামিয়ে দেয়ায় দুর্গম কোনো অংশে আরো কোনো মানুষ নিহত হয়েছে কিনা তা জানার আর কোনো উপায় এখন নেই।

আরো পড়ুন:

আয়কর দিলে কি মুসলিমদের যাকাত দিতে হয়?

সৌদি আরবের ভবিষ্যত বাদশাহ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

কাতার সংকটে যেভাবে শাস্তি পাবে গাজায় ফিলিস্তিনিরা

BBC
English summary
rangamati road in use partially in Bangladesh.
Please Wait while comments are loading...