Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

শহিদ হনুমনথাপ্পাকে মনে পড়ে, কেমন আছে তাঁর পরিবার

  • Posted By: Soumik
Subscribe to Oneindia News

তাঁর মৃত্যুর পর ঘুরে গিয়েছে একটা বছর। সামনেই আরও একটা স্বাধীনতা দিবস। হয়ত তাঁর নাম অনেকেরই মনে নেই। কিন্তু তাঁকে কেউই ভুলে যায়নি। আজও তুষারধসের প্রসঙ্গ উঠলেই তাঁর কথা মনে পড়বেই। তিনি হনুমনথাপ্পা কোপ্পাড়। মাদ্রাজ রেজিমেন্টের ১৯তম ব্যাটেলিয়নের ল্যান্স নায়েক। যিনি সিয়াচেনের ভয়ঙ্কর তুষারধসে চাপা পড়েও ৬ দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। সত্তরতম স্বাধীনতা দিবসে কেমন আছে শহিদ ল্যান্সনায়েক হনুমনথাপ্পা কোপ্পাড়ের পরিবার।

শহিদ হনুমনথাপ্পাকে মনে পড়ে, কেমন আছে তাঁর পরিবার

২০১৬ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি। ১৯,৬০০ ফিট উচ্চতায় সিয়াচেনে ভারতীয় সেনার পোস্ট রক্ষা করছিলেন ল্যান্স নায়েক হনুমনথাপ্পা সহ ১০জন সেনা জওয়ান। আচমকাই একটি ভয়ঙ্কর তুষারধসে চাপা পড়ে যায় সেনা ক্যাম্পটি। লেহ ও উধমপুর থেকে যতক্ষণে উদ্ধারকারী দল এসে পৌঁছয়, ততক্ষণে বরফের তলায় চাপা পড়া জওয়ানদের বেঁচে থাকার আশা আর নেই বললেই চলে। একে একে ৯জন জওয়ানের মৃতদেহ উদ্ধারও করে উদ্ধারকারী দল। কিন্তু পাওয়া যায়নি হনুমনথাপ্পার দেহ। ৬ দিনের মাথায় প্রায় ৩৫ ফিট বরফ খুঁড়ে ফেলার পরই চমকে ওঠেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। পড়ে থাকতে দেখেন হনুমনথাপ্পাকে। শরীরে তখনও রয়েছে প্রাণের স্পন্দন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। প্রথম দিকে চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন তিনি। হনুমনথাপ্পাকে দেখতে সেনা হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। কিন্তু মাল্টিপল অর্গ্যান ফেলিওর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি তাঁক। কাজে এল না দেশবাসীর প্রার্থনা। ১১ ফেব্রুরয়ারি ২০১৬ রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

শহিদ হনুমনথাপ্পাকে মনে পড়ে, কেমন আছে তাঁর পরিবার
শহিদ হনুমনথাপ্পাকে মনে পড়ে, কেমন আছে তাঁর পরিবার

ওইরকম একটা পরিস্থিতিতে ৬দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকাকে অতি বিরল বলেই মনে করা হচ্ছে। সেনা-কর্তাদের বক্তব্য, এ কথা ঠিকই যে হিমবাহে চাপা পড়লে কী করতে হবে, সেই প্রশিক্ষণ জওয়ানদের থাকে। কিন্তু তাতে বড়জোর কয়েক ঘণ্টা থেকে এক দিন বেঁচে থাকা সম্ভব। একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা অনেকে দিচ্ছেন যে, ওই জওয়ান হয়তো বরফের নীচে কোনও এয়ার-পকেট পেয়ে গিয়েছিলেন! সেনা কর্তাদের অনুমান, ফাইবারের তাঁবুর নীচে থাকায় সম্ভবত একটা ফাঁপা জায়গা বা 'এয়ার পকেট'-এর মধ্যে পড়েছিলেন হনুমন্থাপ্পা। অথবা তাঁর নাক-মুখের চারপাশে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে পেরেছিলেন। হয়তো তিনি শরীরটা এমন ভাবে গুটিয়ে ফেলেছিলেন, যাতে বেশি আঘাত লাগেনি। সেনার পোশাক থাকায় ফ্রস্ট বাইট ও ঘটেনি।

শহিদ হনুমনথাপ্পাকে মনে পড়ে, কেমন আছে তাঁর পরিবার

কিন্তু এখন কেমন আছে এই শহিদের পরিবার।
হনুমনথাপ্পার মৃত্যুর এক বছরের বেশি সময় পরে কেন্দ্রীয় সরকার চাকরি দিয়েছে তাঁর স্ত্রীন মহাদেবী কোপ্পাড়কে। কেন্দ্রীয় সিল্ক বোর্ডের একটি পদে চাকরির নিয়োগপত্র তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। অপরদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, হনুমনথাপ্পার মৃত্যুর পর সেনার পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রীর হাতে ১.১ কোটি টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মহাদেবী কোপ্পাড় মাসে ৪০ হাজার টাকা করে পেনশন পান বলে দাবি সেনার। এছাড়াও তাঁকে ৪.৫ একর জমি প্রদান করেছে কর্নাটক সরকার। তবে সেই জমিতে হনুমনথাপ্পার নামে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করার কথা থাকলেও লাল ফিতের ফাঁসে তা এখনও আটকে রয়েছে।

[আরও পড়ুন: সশস্ত্র জঙ্গিকে একা খতম করেছেন রুকসানা, তাঁর দাপুটে সাহসের কাহিনি ফিল্মের চেয়ে কম নয়]

English summary
India remembers Siachen braveheart Hanumanthappa on 70th Independence day.
Please Wait while comments are loading...