Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

প্রতিরক্ষা বিষয়ে চিনের কাছাকাছি সৌদি আরব; পশ্চিম এশিয়ায় সমীকরণ বদলাচ্ছে?

  • By: SHUBHAM GHOSH
Subscribe to Oneindia News

গত ৭ নভেম্বর, অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জেতার ঠিক এক দিন আগে সৌদি আরবের রাজা সলমন বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে সেদেশের রাজধানী রিয়াধে দেখা করেন চিনের রাষ্ট্রপতি জি জিনপিং-এর বিশেষ দূত মেং জিয়াংঝু। দু'পক্ষের মধ্যে বিস্তর আলোচনার পরে সৌদি সরকার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে তাদের একটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা উন্মোচন করে। সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ছাড়াও যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সৌদি আরবকে চিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেওয়াই এই পরিকল্পনার মুখ্য উদ্দেশ্য।

আর্থিক ক্ষেত্রে সৌদি-চিন সহযোগিতা নতুন কিছু নয় কিনতু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই দুই দেশের মধ্যে এত বড় মাপের সহযোগিতা এই প্রথম। ইরানের সঙ্গে চিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং সৌদির সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো মিত্রতা তো বটেই, পাশাপাশি সিরিয়া প্রশ্নে এবং ইসলামিক কাজকর্মের পিছনে সৌদি আরবের সমর্থন অতীতে চিনকে খুব একটা প্রসন্ন করেনি।

প্রতিরক্ষা বিষয়ে চিনের কাছাকাছি সৌদি আরব; পশ্চিম এশিয়ায় সমীকরণ বদলাচ্ছে?

কিনতু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ইরানের সঙ্গে মার্কিন সরকারের পরমাণু চুক্তি বা ৯/১১-র পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সূত্রে ইদানিংকালে ওয়াশিংটনের উপর অসন্তুষ্ট রিয়াধ। এবং সেই কারণে, আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমাতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের গুরুত্ব খর্ব করতে চিনের দিকে ঘেঁষতে শুরু করেছে সৌদি নেতৃত্ব।

চিনের থেকে তাই সৌদি আরব এখন সামরিক প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহী আর চিনও উৎসাহী সৌদির বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারীর আসনটি আমেরিকার থেকে ছিনিয়ে নিতে। যদিও প্রতিবেশী ইয়েমেনে চলা যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটন রিয়াধকে প্রচুর অস্ত্রের জোগান দিয়েছে কিনতু পাছে ওই অঞ্চলের অন্য মিত্রদেশ ইজরায়েল ক্ষুণ্ণ না হয় সেই কারণে সৌদিকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে একটু সজাগ তারা। আর রিয়াধ চাইছে চিনের মাধ্যমে সেই সকল অস্ত্র হাতে পেতে।

অবশ্য ওয়াশিংটন এবং বেজিংকে খেলিয়ে সুযোগসন্ধানী রিয়াধের এই কৌশল এই প্রথম নয়। দ্য ডিপ্লোম্যাট পত্রিকার একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে যে ১৯৮০-র দশকের মধ্যভাগেও চিনের থেকে গুপ্তপথে অস্ত্র কিনে আমেরিকাকে চটিয়ে ছিল সৌদিরা। তবে সৌদি চিনের দিকে ঝুঁকতে পারে ভেবে মার্কিনিরা সেবার রিয়াধকে আরও বেশি করে অস্ত্র সরবরাহ করতে শুরু করে। সৌদির বর্তমান রাজাও সেই কৌশলই নিয়ে এগোচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

তবে একদিকে যেমন সৌদি-চিন সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে এবং সন্ত্রাসের প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্রাম্পের সৌদি আরবের প্রতি আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ওয়াশিংটন-রিয়াধ-এর সম্পর্ক আরও খারাপ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তখন আরও একটি ব্যাপারে দিকেও নজর রাখছে বিশেষজ্ঞরা। এবং সেটা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যেও সম্পর্কে অবনতি। পাশাপাশি চিনের সঙ্গেও ইরানের সাম্প্রতিককালে সম্পর্ক খুব মধুর নয়। সেটাও সৌদি আরবের পক্ষে সুবিধাজনক।

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করার পক্ষে কথা বলাতে তেহরান যেমন আতঙ্কিত, তেমনি সিরিয়া প্রশ্নেও এই দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। আর যেহেতু ইরান সৌদিরও পয়লা নম্বরের শত্রু, তাই তাকে কেন্দ্র করে সৌদিদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা যথেষ্ট রয়েছে।

English summary
saudi Arabia gets closer to China; are new realities emerging in West Asia?
Please Wait while comments are loading...