Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

নির্বাচন নির্বাচন খেলা! মমতার খামখেয়ালিপনায় এক উপনির্বাচন শেষ হলেই আর একটার সম্ভাবনা

Subscribe to Oneindia News

এ যেন নির্বাচন নির্বাচন খেলা। এক উপনির্বাচন শেষ হলেই আর এক উপনির্বাচন! চলতে থাকবে। চলতেই থাকবে! তড়িঘড়ি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর অন্তত তেমনটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই ফের আর একটা উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের এই সিদ্ধান্ত বিতর্ক রাজনৈতিক মহলেও।

আসন্ন উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। আগামী ১৯ নভেম্বর পূর্বমেদিনীপুরের তমলুক ও কোচবিহার জেলার কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র এবং বর্ধমানের মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট। স্বাভাবিক নিয়মেই এই ভোট বাধ্যতামূলক। তমলুক ছাড়া কোচবিহার ও মন্তশ্বরে সাংসদ ও বিধায়কের প্রয়াণ ঘটেছে। ওই দু'টি কেন্দ্রই খালি। আর তমলুকের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের বিধায়ক হয়েছেন। হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পরবিহণ দফতরের মন্ত্রী। শুভেন্দুবাবুকে নিজের মন্ত্রিসভায় চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচন নির্বাচন খেলা! মমতার খামখেয়ালিপনায় এক উপনির্বাচন শেষ হলেই আর একটার সম্ভাবনা

বিধানসভা ভোটের আগে তিনি পূর্বমেদিনীপুরের সভায় ঘোষণাও করেছিলেন সেই কথা। তারপর তাঁর কোনও একটি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে একটা-আধটা আসনে পুরনো কাউকে আনা তর্কের খাতিরে মেনে নেওয়া যায়ই। কেননা যোগ্য পদে যোগ্য ব্যক্তিকে আনার লক্ষ্যে একটা আধটা পরিবর্তন করা যেতেই পারে। আর সেটাই হয়েছিল আগে থেকে ঘোষণা করে। গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হবে, তাই তমলুকের সাংসদ পদ থেকে শুভেন্দুকে সরিয়ে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছিল বিগত বিধানসভা নির্বাচনে। সেটা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই।

কিন্তু বিতর্ক শুভেন্দুর ছেড়ে আসা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের নয়া প্রার্থীকে নিয়ে। এবার এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন শুভেন্দু-অনুজ দিব্যেন্দু অধিকারী। তিনি কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত। মাত্র ছ'মাস আগে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নামই ছ'মাস পরে বিবেচিত হচ্ছে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে। শুভেন্দুকে যখন নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল, তখনই জানা ছিল তমলুক লোকসভা কেন্দ্র শূন্য হতে চলেছে।

সেই কেন্দ্রে উপনির্বাচন জরুরি হয়ে পড়বে। সেই আসন যদি অধিকারী পরিবারের হাতেই রাখতে হয়, তবে দূরদৃষ্টতা পরিচয় হত যদি দক্ষিণ কাঁথিতে দিব্যেন্দুর পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হত। কেননা তখন থেকেই দিব্যেন্দুকে তমলুক লোকসভার প্রার্থী হিসেবে ভেবে রাখলে, আজ তাহলে কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হত না।

তৃণমূলের এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের কারণে আবার তাই ছ'মাসের মধ্যে উপনির্বাচন। কে বলতে পারে আবার ওই কেন্দ্রে এমন একজন প্রার্থী ঠিক করা হবে না, যিনি অন্য কেন্দ্রে থেকে নির্বাচিত। আসলে জেনে বুঝেই একটার পর একটা উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে যে বিশাল অঙ্কের একটা অর্থ ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ভাবনায় নেই। তিনি মুখে বলছেন, তাঁর সরকার আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলছে। পূর্বতন সরকারের ঋণ সামলাতে সামলাতে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। কেন্দ্রের কাছে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনও সাহায্য মেলেনি।

একার কাঁধে ঋণের বোঝা সামলে উন্নয়ন যজ্ঞ চালানো হচ্ছে। সবকিছু মানা গেল, অনেক অসুবিধার মধ্য দিয়েই রাজ্যকে দিশা দেখাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে তিনি কেন বুঝবেন না, একটু বুঝে শুনে খরচ করার দরকার। খরচে একটু লাগাম টানা জরুরি। তাহলে তো তিনি আরও সাবলীলভাবে চালাতে পারেন রাজ্যকে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, দিব্যেন্দুর ছেড়ে যাওয়া কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তকে জিতিয়ে আনাই তাঁর লক্ষ্য। সেই কারণেই এই তাস খেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বর্তমান সময় ও পরিস্থিতির নিরিখে তমলুকে তৃমমূলের জয় প্রায় নিশ্চিত। তাঁর ইচ্ছাতেই দিব্যেন্দুকে তমলুক লোকসভায় পাঠিয়ে মণীশ গুপ্তকে কাঁথি দক্ষিণ থেকে জিতিয়ে বিধানসভায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা। ছ'মাস আগেই তিনি যাদবপুরে সুজন চক্রবর্তীর কাছে হেরেছেন। তাঁকে এমনই দরকার হয়ে পড়ল যে, তাঁকেই জিতিয়ে আনতে হবে আবার ঘটা করে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজিয়ে। আদতে এইসব ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর খামখেয়ালিপনাই প্রকাশ পাচ্ছে। এক উপনির্বাচন সারতে গিয়ে আর একটা উপনির্বাচন ঘটা করে ডেকে আনার কোনও অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

English summary
Another by election may be held because of mamata's decision
Please Wait while comments are loading...