Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

আন্দুল রাজবাড়ি: ১০ হাজার টাকার সন্দেশ, ১০৮টি পদ্ম ও এক হাজার টাকা প্রণামী নিয়ে এসেছিলেন লর্ড ক্লাইভ

Subscribe to Oneindia News

রাজবাড়ির সামনে এসে থামল সারি সারি জুড়িগাড়ি। পিছনে সুসজ্জিত ফিটন। জুড়িগাড়ি থেকে ডালার পর ডালা সন্দেশ নামছে। পিছনের ফিটন থেকে নামলেন এক গোরা সাহেব। হঠাৎ শোরগোল পড়ে গেল। এ যে স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ সাহেব। পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজদৌল্লাকে হারিয়ে কোম্পানির নয়ণের মণি তখন।

মহাসপ্তমীর সন্ধ্যে। সকালেই রাজবাড়ির কামানের গর্জনে শুরু হয়েছে দেবীর সপ্তমীবিহিত পুজো। হাওড়ার আন্দুল রাজবাড়িতে সেই প্রথম দুর্গাপুজো। রাজবাড়ির বৈভবের খামতি নেই। খামতি আড়ম্বরেরও। সেই জৌলুসের পারদ আরও চড়ে গেল ক্লাইভের পদার্পণে।

১০ হাজার টাকার সন্দেশ, ১০৮টি পদ্ম ও এক হাজার টাকা প্রণামী নিয়ে এসেছিলেন লর্ড ক্লাইভ

নিছক গল্পকথা নয়, ঐতিহাসিক সত্য। ১৭৭০ সাল। আন্দুল-রাজ রামলোচন রায় সেবারই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। ক্লাইভের দেওয়ান, পণ্ডিত মানুষ ছিলেন রামলোচন। আটটি মৌজায় বিস্তৃত তাঁর জমিদারি। ক্লাইভের সুপারিশে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে পেয়েছেন 'রাজা' উপাধিও। সেই ক্লাইভের পরামর্শেই আন্দুল রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা। তাঁর অনুগত 'রাজা'কে উৎসাহ দিতে প্রথমবারের সেই পুজোয় উপস্থিত হয়েছিলেন লর্ড ক্লাইভ। সঙ্গে এনেছিলেন দশ হাজার টাকার সন্দেশ। দেবীর পাদপদ্মে নিবেদনের জন্য ১০৮টি পদ্ম ও এক হাজার টাকা প্রণামীও এনেছিলেন ওই ইংরেজ সাহেব।

সেদিন রাজবাড়ির ইতিহাসে জন্ম নিয়েছিল নতুন এক ঐতিহ্যের। সে ঐতিহ্য আড়ম্বর-আভিজাত্যের। কামান গর্জন, তূর্যধ্বনি, আলোর রোশনাই, কাঙালি ভোজন, নাচমহলের বেলোয়ারি ঝাড়ের টুংটাং শব্দের সঙ্গে বাইজিদের মুজরো- সেই আভিজাত্যেরই স্মারক ছিল। বিষাণ বাজিয়ে, তূর্যধ্বনিতে মহাসমারোহের রাজবাড়ির শারদ-বন্দনায় একটি মহিষ, ১২টি ছাগ উৎসর্গ করা হয়েছিল সেবা।

এখন আর সেই জৌলুস নেই। তা বলে ঐতিহ্য রক্ষায় খামতি নেই কোথাও। রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য অরুণাভ মিত্র জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কামান গর্জন ও বলি বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুজোর রীতি পূর্ববৎই বজায় আছে। কৃষ্ণা-নবমী তিথিতে কল্পারম্ভ হওয়ার রীতি আজও চলে আসছে সমানে। সেই রীতি মেনে অনান্য পুজোর ১২দিন আগেই বসে রাজবাড়ির পুজোর আসর। রাজবাড়ির মাঠে বসে মেলা। তবে বাইজিদের সেই মুজরোর আসর আর বসে না। কিন্তু নতুন করে রাজবাড়ির সদস্যরা স্বয়ং শামিল হন ধুনুচি নাচে। অষ্টমীর দিন রাতে এই ধুনুচি নাচে এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুজোর রাজবাড়িতে। মন্দিরের আদলে এসেছে আধুনিকতার স্পর্শ। বেলোয়ারি ঝাড় নেই, লাগানো হয়েছে আধুনিক মানের ঝাড়বাতি। এখনও রীতি মেনেই আটমণ মাটি দিয়ে তৈরি হয় একচালা প্রতিমা। বাহন সিংহের মুখ ও গ্রীবাদেশ ঘোড়ার মতো।

English summary
Andul Rajbarir Pujo : Lord Clive Came here with 108 lotus, Sweets of Rs 10,000, and Rs 1,000 'Pranami'
Please Wait while comments are loading...