Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

আপনার বাড়ি ও বাস্তু শাস্ত্র

  • By: Shuvro Bhattacharya
Subscribe to Oneindia News

প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ৷ জীবজন্তু, গাছপালা, কীটপতঙ্গ, জলচর প্রাণী থেকে মানুষ, কেউই প্রাকৃতিক নিয়মের ঊর্দ্বে নয়৷ অন্যান্য প্রাণীরা যেখানে প্রাকৃতিক নিয়মের বশবর্তী হয়ে যুগ যুগ ধরে প্রায় একই ভাবেই চলে আসছে, সেখানে মানুষ কিন্তু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই৷ উন্নত ও বিকশিত মস্তিষ্কের সাহায্যে মানুষ প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে না গিয়েও জগত্‍ জয় করেছে৷ শুধু যে তারা সমাজ ও সভ্যতা সৃষ্টি করেছে- রোগকে জয় করে চলেছে, মহাবিশ্বের রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন গ্রহে রকেটও পাঠাচ্ছে৷ সবই প্রকৃতির নিয়ম মেনেই৷ একে কেউ পরিবর্তন করতে পারেনি৷ মানুষও নয়৷ মানুষ শুধু প্রকৃতির সেই নিয়মগুলোকে অনুধাবন করে তাকে কাজে লাগিয়েছে৷

এত উন্নত হয়েছে মানুষ তবুও প্রাকৃতিক বৃহত্তর শক্তির কাছে সে কত অসহায়৷ জীবজন্তুরা যেখানে অসহায় আত্মসমর্পণ করে সেখানে ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, অনাবৃষ্টি, খরা, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদির ক্ষেত্রে বড়জোড় সে এগুলো থেকে কিভাবে কিছুটা বাঁচতে পারে তার চেষ্টাও করে চলেছে মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে৷ এইভাবে মানুষ এগিয়ে চলেছে ক্রমাগত৷ মানুষের এই সভ্যতা গড়ার লক্ষ্য জীবনকে সহজতর ও সুন্দরতর করা৷ এর জন্য চাই তার উপযু্ক্ত বাসস্থান কি শহরে, কি গ্রামে৷ এবং এই বাসস্থান বা বাস্তু এমনভাবে এবং এমন ভূমিতে করতে হবে তা যেন বিপদ আপদ থেকে, প্রকৃতির রোষ থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে এবং আমাদের জীবনের বিকাশের সহায়ক হয়৷ কোন দিকে ঘড়বাড়ির সম্মুখভাগ হবে, কোনদিকে দরজা-জানলা থাকবে, রান্নাঘর ইত্যাদি থাকবে তারও একটা শাস্ত্র আছে এবং তা হচ্ছে বাস্তু শাস্ত্র৷

 আপনার বাড়ি ও বাস্তু শাস্ত্র

বাস্তু কী ?

নির্মাণ শিল্পের বিজ্ঞানকেই বাস্তু বলা যেতে পারে। বা বলা যেতে পারে নির্মাণ শিল্পে বিভিন্ন বস্তুর সমন্বয়ে যে শক্তির সৃষ্টি হয়, তাই হল বাস্তু। বাড়ি বা অফিসে কোন জিনিস কীভাবে রাখা হবে বা কোথায় রাখা হবে, তার উপর নির্ভর করে ভালো ও খারাপ শক্তি নির্গত হয়। বাস্তুশাস্ত্র এমন এক শিল্প, যার মাধ্যমে এই ভালো ও খারাপ শক্তির মধ্যে সমতা রক্ষা করা যায়। ইমারত তৈরির পাশাপাশি, যেখানে সেটি অবস্থিত তার মাটি পরীক্ষা, সামনে দিয়ে যেভাবে রাস্তা গিয়েছে, ইমারতটি কোন দিকে মুখ করে রয়েছে, জলের ব্যবস্থা, আশেপাশের পরিবেশ সবকিছুই বাস্তু শাস্ত্রের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত।

আমাদের প্রাচীন সাহিত্য ও ধর্মগ্রন্থতেও বাস্তুর উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালের বাস্তু বিশেষজ্ঞ রাজ বল্লভের মতে ভালো বাড়ি শুধু নয়, ভালো জীবনের জন্যও বাস্তু মেনে চলা প্রয়োজন। তার জন্য যে যে বিষয়গুলির উপর তিনি গুরুত্ব দিতে বলেছেন, তা হল -

১. ইমারত যে শহরে নির্মাণ করা হবে, তারা অনুসারে তার উপযোগিতা

২. দিক নির্ণয়

৩. মাটি

৪. দিন

৫. বাস্তু পুরুষের অবস্থান অনুসারে নক্ষত্রের বিচার

 আপনার বাড়ি ও বাস্তু শাস্ত্র

একটি ইমারতে মোটামুটি পাঁচটি মূল বিষয় থাকে। - জায়গা, বাতাস, জল, আগুন এবং মাটি। এই পাঁচটির মধ্যে সমন্বয় রক্ষা হলে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে। বাস্তুমতে বলা হয়, ব্রহ্মা আমাদের শরীর আত্মার বসবাসের জন্য তৈরি করেছেন। সেখানে যেভাবে জল, বাতাস প্রভৃতির মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা হয়েছে, সেভাবেই আমাদের শরীরের বসবাসের জন্য মূল পাঁচটি উপকরণের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা জরুরি।

এই বাস্তু শাস্ত্র যাঁরা রচনা করেছেন সেই প্রাচীন মুনিঋষিরা যে সমস্ত ব্যবস্থার কথা বলেছেন তা বিজ্ঞানসম্মত৷ তাঁরা বলেছেন, প্রতিটি বাস্তুর শক্তি রয়ে‌ছে এবং এই শক্তি আবার বাস্তুর সৃষ্টি করে যেগুলোকে তাঁরা জড় শক্তি ও জীব শক্তি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন৷ এখন দেখুন, পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞনী আইনস্টাইন কি বলেছেন? তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, এই যে মহাবিশ্ব যা বস্তুর ভর এবং শক্তি দিয়েই তৈরি তা পরস্পর রূপান্তরযোগ্য৷ অর্থাৎ, ভর শক্তিতে এবং শক্তি ভরে রূপান্তরিত হতে পারে৷

 আপনার বাড়ি ও বাস্তু শাস্ত্র

আমাদের প্রাচীন মুনিঋষিরা আবার বলেছেন, প্রত্যেটি মানুষের দেহজ্যোতি বা অলৌকিক আভা (Aura) রয়েছে যা বেশি করে কোনও মহাপুরুষের শরীরে বিশেষ করে তাঁদের মাথার চারদিকে তারা প্রত্যক্ষ করতেন৷ যেগুলোকে তাঁরা 'দিব্য কান্তি বলয়' আখ্যা দিয়েছেন৷ দেবদেবীর ক্ষেত্রেও একই কথা৷ এটা যে কোনো কল্পনা নয় বা গাঁজাখুরি গল্প নয় তা কিন্তু ১৯৩৯ সালে রুশ বিজ্ঞানী সাইমন কিরলিয়ান আবিষ্কার করেছিলেন৷ তিনি লক্ষ্য করলেন যে, যখন তিনি কোনও উচ্চ শক্তির বৈদ্যুতিক চালক শক্তি(High Voltage Field) ক্ষেত্রে ফটোগ্রাফিক প্লেটের কাছে তাঁর আঙুলগুলোকে নিয়ে আসছেন তখন তার থেকে এক ধরনের তেজ নিঃসরণ হচ্ছে এবং এখান থেকে দেহ নিঃসৃত অলৌকিক তেজ বা ( Aura Energy)-র আবিষ্কার৷

বিজ্ঞানী কিরলিয়ান সেই তেজ বা শক্তিকে মাপার জন্য যন্ত্রও আবিষ্কার করেছেন৷ তিনি আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্যে যা প্রমাণ করলেন তা কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে আমাদের বৈদিক মুনিঋষিরা কোনও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই উপলব্ধি করেছেন যাতে তাঁরা জীবশক্তি ও জড়শক্তি নাম দিয়েছেন৷ না হলে সত্যদ্রষ্টা ভারতীয় মুনিঋষিদের কোনও যন্ত্র ছাড়াই এই আবিষ্কার বেদের পাতার মধ্যেই নিহিত থাকত -কেউই জানতেই পারত না৷

 আপনার বাড়ি ও বাস্তু শাস্ত্র

এই যে Energy বা শক্তি কথা বলা হল তা দুই প্রকারের৷ Negetive Energy বা ঋণাত্মক শক্তি এবং Positive Energy বা ধনাত্মক শক্তি৷ বাস্তুর ক্ষেত্রে বিচার বিবেচনা করে বাস্ত্ত নির্বাচন ও গৃহনির্মাণ করতে হবে যাতে ঋণাত্মক শক্তি কাজ করতে না পারে-শুধু ধনাত্মক শক্তিই কাজ করবে৷ ঋণাত্মক শক্তি কাজ করলে তা নিয়ে আসবে নানাপ্রকার দৈহিক ও মানসিক অসুখ-বিসুখ, হিংসা, মনোমালিন্য, অশান্তি, ক্ষয়ক্ষতি, ধনক্ষয় ইত্যাদি হতে থাকবে৷ আমরা বাসগৃহ, অফিস, কারখানা, গুদাম, দোকান যাই নির্মাণ করি না কেন তা থেকে এক সামগ্রিক শক্তি বা তেজ উত্পন্ন হয় যেগুলোকে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না৷

আধুনিক এনার্জি স্ক্যানিং ডিভাইসের(Energy Scanning Device) সাহায্য আমরা এই সমস্ত নির্মাণ করতে পারি যার ফলে সেগুলো ধনাত্মক শক্তিতে পূর্ণ হয়ে থাকে এবং আমরা ওখানে দীর্ঘক্ষণ থাকলে আমরা ধনাত্মক শক্তিতে পরিপূর্ণ হতে পারি ফলে আমাদের জীবন সুখকর হতে পারে৷ একথাও মনে রাখতে হবে যে বাস্ত্ত দোষের কারণে উত্পন্ন ঋণাত্মক শক্তিতে নানা মাধ্যমে বাড়ির ভাঙচুর না করে- বিভিন্ন রঙ, রিফ্লেক্টার, শক্তি সিলিং যন্ত্র, এসেন্সিয়াল আইল, সিম্বল ইত্যাদির দ্বারা খর্ব করে-ধনাত্মক করা সম্ভব৷

বাস্তুভূমি, কারখানার জমি বা বাগানবাড়ি- যাই আপনি করতে যান, তিনটি বিষয়ের দিকে নজর দিতেই হবে৷ এক নম্বর হল মহাজাগতিক শক্তি যা আপনার নির্বাচিত বা নির্বাচনযোগ্য ভূমির উপর কেমন প্রভাব ফেলছে৷ আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রে এবং পঞ্জিকায় যে রাহুকাল, বারবেলা বা শুভকাল, মাহেন্দ্রক্ষণ বা চূড়ামণি যোগ ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে তার কারণ রাহুকালে বা বারবেলায় অশুভ শক্তি বা Negetive Energy প্রচুরভাবে উৎপন্ন হতে থাকে৷ দুই নম্বর হচ্ছে, ভূমির নিম্ন বা গর্ভে নানা পদার্থ, ধাতু, জীবজন্তুর কঙ্কাল ইত্যাদি থাকলে তা ঋণাত্মক শক্তি বা Negative Energy উৎপন্ন করতে থাকে যা ভূমির উপরে নির্মিত বাসগৃহ, কারখানা বা অন্য কিছুর উপর খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করে৷

এবং তিন নম্বর হচ্ছে ভূমির উপরে নির্মিত গৃহ যে সামূহিক শক্তি উৎপন্ন করে যা সেই গৃহে বাসকারী মানুষদের উপর বিস্তার করে৷ তাই বাসগৃহ, কারখানা, বাগানবাড়ি, দোকানবাড়ি, দোকানঘর ইত্যাদি এমনভাবে এমন জমিতে এমন কৌণিক অবস্থানে নির্মাণ করতে হবে যাতে ঋণাত্মক শক্তি উৎপন্ন তো করবেই তা, ধনাত্মক শক্তির আধার হবে৷ আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রে আবার ভূমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'কূর্মপৃষ্ঠ জমিকে উচ্চস্থান দেওয়া হয়েছে সবই বিজ্ঞানসম্মত কারণের উপর ভিত্তি করেই৷

সর্বব্যাপী মহাজাগতিক উর্জা বা তেজ

আমাদের বেদ ও মুখ্য উপনিষদগুলিতে বলা হয়েছে, ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি অণু-পরমাণু থেকে অসীম এই ছায়াপথ, প্রাণময় বা প্রাণহীন সমস্ত বস্ত্তর প্রতিটি কার্যকলাপকে এই মহাজাগতিক উর্জাই নিয়ন্ত্রিত করছে৷ একে 'ব্রাহ্মণ' বলে শাস্ত্রে বলা হয়েছে৷ এই তেজ গ্রহ- নক্ষত্র, মহাকাশ, নক্ষত্র, মহাকাশ, নক্ষত্রপুঞ্জ বা ছায়াপথকে শক্তি যোগাচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রিণ করছে৷ একে প্রাণশক্তি, আবার, কোথাও চি, কি, মানা অর্গোন বলেও চিহ্ণিত করা হয়েছে৷

মানুষের মঙ্গলের জন্য 'অগ্নিহোত্র'

যে গৃহে বিধিসম্মতভাবে এবং নিয়নিত 'অগ্নিহোত্র' করা হয় সে গৃহের মানুষ ধনাত্মক শক্তির অধিকারী হয়, এর প্রমাণ ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা দেখা গিয়েছে৷ যে গৃহে এর চর্চা হয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের বিষাক্ত গ্যাস কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, অথচ এর বাইরের লোক মারা পড়েছে৷ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা- নিরীক্ষার সাহায্যে বিভিন্ন স্তরে কিভাবে ধনাত্মক শক্তির সুপ্রবাব পড়ে তা প্রমাণ করা যায়৷ সমুদ্র সৈকত, জলপ্রপাত এবং ধর্মীয় স্থানে এই ধনাত্মক শক্তি প্রচুর পরিমাণে থাকে৷ লোকবিশ্বাস এই যে, ভারত-তিব্বত সীমান্তে তিব্বতীয় আশ্রম অঞ্চলে এই শক্তি প্রভূত পরিমাণে পরিলক্ষিত হয় এবং সেখানকার মানুষ ২৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচে৷ গ্রিসের একটি অঞ্চলে, অরুণাঞ্চলে এবং বিশাখাপত্তনমের তোতলাকোণ্ডা, বাবিকোণ্ডার মানুষ এই ধনাত্মক উর্জা বিকিরণের কারণে ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন৷

সিমেন্ট ও স্টিল ঋণাত্মক শক্তি উত্‍পাদন করে

গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে বর্তমান যুগে সিমেন্ট ও স্টিল এক অপরিহার্য উপাদান হিসাবে সারা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত৷ অথচ ঋণাত্মক উর্জা বিকিরণকারী স্টিল এবং র্যাডন গ্যাস নিঃসরণকারী সিমেন্টকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবাই যায় না৷ কিন্তু এগুলো প্রস্তুত করার সময়ে আমরা যদি এগুলো তেজযুক্ত করতে পারি তাহলে এগুলো গৃহে ব্যবহূত হওয়ার পরে ঋণাত্মক শক্তি তো উৎপন্ন করবে না, উপরিউক্ত ধনাত্মক শক্তি বিকিরণ করবে৷ তাছাড়া, এই উপাদানগুলোর মান ও শক্তি বৃদ্ধি পাবে৷

সেল ফোন

যখন এই তেজ বা উর্জার কথা হচ্ছে তখন বর্তমানে আমাদের অতি ব্যবহূত এবং প্রায় বর্তমানযুগে অপরিহার্য সেই সেল ফোনের কথাটাও বলা একান্ত প্রয়োজন কারণ এগুলো অতি তেজস্ক্রিয় ও অণুতরঙ্গ বিকিরণ করে৷ এই তেজ বা উর্জা ঋণাত্মক৷ দীর্ঘদিন বিজ্ঞানীরা এর ক্ষতিকারক পরিণামকে স্বীকৃতি দিতে চাননি৷ কিন্তু ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা এটা প্রমাণ করার পরে এটি সর্বজনস্বীকৃত হয়েছে৷ এবং তাঁরা এর নিরাপদ স্তরও(safe level) নির্ধারণ করে দিয়েছেন৷ এর প্রভাব বেশি করে চোখকে ও সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে৷ এই তেজস্ক্রিয়তা মাইক্রো ওভেনের নিয়মের মতো কাজ করে৷

সেল ফোন যখন কাজ করে এবং তা যদি শরীরের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে থাকে, তখন তা অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে কারণ এটি ৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার ইউনিট ঋণাত্মক উর্জা বিকিরণ করে থাকে৷ ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে শরীরের কোনও বিশেষ অঙ্গ (organ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ ব্যবহার না করলে আবার কিছুক্ষণের পরে এটি ঋণাত্মক উর্জা বিকিরণ বন্ধ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে৷ তাই এটিকে বুক পকেটে রাখা বা হাতে ধরে রাখা উচিৎ নয়৷ তাহলে আমাদের হৃদযন্ত্রকে তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং যেহেতু আমাদের হাতের চেটোর বিভিন্ন স্থান বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত তাই দীর্ঘক্ষণ ধরে এক নাগাড়ে ব্যবহার করলে এটা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে৷

বাস্তুতে দিকের প্রভাবপূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ। বাস্তুতে এই চারটি দিকের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। ইমারত গঠনের সময় এই বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি। আগেকার দিনে সূর্যের ছায়া দেখে দিকের হিসেব করা হত। এখন ম্যাগনেটিক কম্পাসের মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে নিখুঁত ভাবে দিক নির্ণয় করা হয়। সাধারণ ভাবে চারটি প্রধান দিক নিয়ে হিসেব হলেও বাস্তুমতে মোট দশটি দিক রয়েছে। তবে কম্পাসে আটটি দিকের হদিশ পাওয়া যায়। কম্পাস মোট ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে। প্রতিটি দিকের জন্য ৪৫ ডিগ্রি করে নির্দিষ্ট রয়েছে। প্রতিটি দিকের জন্য ডিগ্রির স্তর পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজনীয়।

উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম - এই মূল চারটি দিক ছাড়াও আরও চারটি উপদিক রয়েছে। এগুলি সবসময় কোণাকুনি ভাবে অবস্থান করে। এগুলি হল -উত্তরপূর্ব কোণ বা ঈশাণ কোণদক্ষিণপূর্ব কোণ বা অগ্নি কোণ দক্ষিণ পশ্চিম কোণ বা নৈঋত কোণ উত্তরপশ্চিম কোণ বা বায়ু কোণ বাস্তুমতে নবম দিক হল আকাশ ও দশম দিক হল পাতাল।

বাস্তুমতে উত্তর দিক অত্যন্ত শুভ হিসেবে বিবেচিত। এই দিকের অধিপতি হলেন হিন্দু মতে ধন-সম্পত্তির দেবতা কুবের। সেই কারণে উত্তর দিককে অর্থ ও পেশাগত উন্নতির দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বুধ হল উত্তর দিকের গ্রহ। বাস্তুপুরুষের বুক ও পেট উত্তর দিকে থাকে। তাই ঘরের উত্তর দিক সব সময় খোলামেলা, আলোকজ্জ্বল ও সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা জরুরি। আধুনিক বাস্তুবিশেষজ্ঞদের মতে উত্তর মেরুর কারণে উত্তর দিক থেকে প্রচুর পরিমাণে ভালো শক্তি নির্গত হয়। এই শক্তি বাড়ির সকল সদস্যের জন্যই প্রয়োজনীয়। তাই উত্তর মেরুর পজিটিভ শক্তি বাড়ির মধ্যে যাতে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারে, সে জন্য উত্তর দিক খোলামেলা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ - দক্ষিণ দিক সবসময়ই বাস্তুমতে খারাপ দিক হিসেবে চিহ্নিত। তবে তা সবসময় সত্যি নয়। বলা যেতে পারে উত্তর দিকের সব ভালো শক্তির ব্যাঙ্ক হল দক্ষিণ দিক। দক্ষিণ দিক খুব একটা খোলামেলা না হওয়াই ভালো। বাস্তুমতে এই দিকের অধিপতি হলেন হিন্দু দেবতা যম। তাই ঘরের দক্ষিণ দিক বেশি খোলামেলা হলে বাড়ির সদস্যদের বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ এমনকি মৃত্যুভয় লেগে থাকবে। দক্ষিণ দিক খোলামেলা বাড়ির সদস্যরা মামলা-মোকদ্দমাতেও জড়িয়ে পড়তে পারেন। দক্ষিণ দিকে বন্ধ দেওয়াল থাকলে অর্থ ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে। এই দিকের প্রতিনিধি গ্রহ হল মঙ্গল।

পূর্ব - অত্যন্ত শক্তিশালী দিক। এই গ্রহের অধিপতি হলেন দেবরাজ ইন্দ্র। ইন্দ্র বৃষ্টি, প্রতিপত্তি, উত্‍সব ও শক্তির দেবতা। পাশাপাশি পূর্ব দিকে প্রতিনিধি গ্রহ হল সূর্য, যা নিজেই শক্তির বিশাল উত্‍স। সূর্যের প্রভাবে জীবনে উন্নতি হয়। তাই পূর্ব দিককে আমরা উন্নতির দিক হিসেবে চিহ্নিত করি। বাড়ির পূর্ব দিকও খোলামেলা, আলোকজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। এই দিকে দরজা, জানালার পরিবর্তে শুধুই বন্ধ দেওয়াল থাকলে জীবনে উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হবে। বাড়ির পূর্ব দিকে বাথরুম থাকা বাস্তুমতে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত। মনে রাখবেন, পূর্ব দিকে বাধা মানে আপনার জীবনেও বাধা।

পশ্চিম - এই দিক জীবনে প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধির দিক। এই দিকের অধিপতি হলেন বৃষ্টি, খ্যাতি ও ভাগ্যের দেবতা বিষ্ণু। এই দিকের প্রতিনিধি গ্রহ হল শনি। বাড়ির পশ্চিম দিক খুব একটা খোলামেলা রাখা বাঞ্ছনীয় নয়। পূর্ব দিকের শক্তি অর্থাত্‍ সূর্য থেকে নির্গত শক্তি পশ্চিম দিকে সঞ্চিত হয়। সূর্য বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ে সেভাবেই শক্তির উত্‍স্যও পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে সরে যায়। পশ্চিম দিকে বাড়ির মূল দরজা না হওয়াই ভালো। এতে অর্থলাভের সম্ভাবনা নষ্ট হয়।

উত্তর পূর্ব - বাস্তুমতে খুবই ভালো দিক। এই দিকের অধিপতি হলেন হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ দেবতা শিব। এর প্রতিনিধি গ্রহ হল বৃহস্পতি। ধনসম্পত্তি, প্রতিপত্তি ও সুস্বাস্থ্য দান করে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উত্তরপূর্ব অত্যন্ত শুভ দিক। এই দিক থেকে শক্তিশালী চৌম্বকীয় শক্তি নির্গত হয়। বাড়ির উত্তরপূর্ব দিকে শৌচাগার নির্মাণ গোটা পরিবারকে শেষ করে দিতে পারে। এই দিকে দাহ্য পদার্থ রাখা উচিত নয়। বড় নির্মাণও না করাই ভালো।

দক্ষিণ পূর্ব - আপনার যদি কোনও বদরাগী, সংবদেনশীল সুভাকাঙ্খী থাকেন, তাঁর মতোই অনেকটা হল এই দক্ষিণপূর্ব দিক। দক্ষিণপূর্ব দিকের অধিপতি হল অগ্নিদেব। এর প্রতিনিধি গ্রহ শুক্র। সূর্য যখন দক্ষিণপূর্ব দিকে আসে, তখন এর মেজাজ অত্যন্ত উগ্র থাকে। সবথেকে উগ্র অবস্থায় এই সময়ই থাকে সূর্য। এই উগ্র রূপকে আগুনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। আগুন সংক্রান্ত কাজকর্ম এই দিকে করলে ভালো হয়। এই দিকে জিনিসপত্র রাখা ও নির্মাণ করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

দক্ষিণ পশ্চিম - এই দিকের অধিপতি হল নিরিতি নামের এক রাক্ষস। এর প্রতিনিধি গ্রহ রাহু। উত্তরপূর্ব দিক থেকে নির্গত চৌম্বকীয় শক্তি এই দিকে সঞ্চিত হওয়ায় এটাই বাড়ির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। এই দিকের সঠিক ব্যবহার খুবই শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর জীবন দিতে পারে। এই দিক সম্পদ, স্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাসের দিক হিসেবে চিহ্নিত। বাস্তু মেনে ব্যবহৃত হলে দক্ষিণ পশ্চিম দিক খ্যাতি এনে দেবে। কিন্তু ভুল ব্যবহার নানা সমস্যা ডেকে আনবে। অর্থ বেরিয়ে যাবে। হতাশা, উদ্বেগ এমনকি আত্মহত্যাপ্রবণতাও দেখা দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে দক্ষিণ পশ্চিম দিকের ভুল ব্যবহার কর্মীদের কাজে অমনোযোগের কারণ।

উত্তর পশ্চিম - এই দিকের অধিপতি হল বায়ু। এর প্রতিনিধি গ্রহ হল চন্দ্র। বাতাস এর মূল উপাদান হওয়ায় এই দিকটি খুবই অস্থির দিক। এই দিকের সঠিক ব্যবহারে জীবনে নানা সুযোগ আসে। পেশাগত জীবনে উন্নতি হতে পারে। তবে বাস্তুমতে এর ভুল ব্যবহার বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।এর ফলে অসুখবিসুখও হতে পারে।

গৃহ নির্মাণ যোগ্য ভূমির বিভিন্ন 'দিক'-এর বাস্তুগত গুরুত্ব

উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম দিকে বিন্যস্ত মোট দশটি দিক থাকলে বাস্তুশাস্ত্রে আটটি দিকের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ৷ এই আটটি দিক হল-পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, অগ্নি, নৈঋত ও বায়ু৷ এর মধ্যে প্রথম চারটিকে বলা হয় প্রধান 'দিক'৷ শেষ চারটিকে বলা হয় সহায়ক 'কোন' চলিত কথায় আমরা এগুলিকে মুখ্যত আটটি দিক বলতে পারি৷

ভারতীয় শাস্ত্র অনুসারে এই আটটি দিকের প্রতিটির এক-একজন অধিদেবতা বা দিকপাল রয়েছেন৷ এখানে 'দেবতা' বলতে 'শক্তি' বোঝানো হচ্ছে৷ বাস্ত্তশাস্ত্র অনুসারে এই চারটি দিক ও চারটি কোণ থেকে অনবরত বিভিন্ন প্রকার শক্তি বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীর উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে৷ তাই মানুষের সর্বসিদ্ধি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রকৃতির এই সকল শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে জীবন ধারণের বিভিন্ন রকম আদব-কায়দা, রীতি-নীতি ও বিধি-নিষেধের কথাই বাস্তুশাস্ত্রে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে৷ আর বাস্তুশাস্ত্রের এই সকল জটিল নির্দেশ ও বিধান সহজ সরল ভাষায় সাধারণের উপযোগী করে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যেই বাস্তুশাস্ত্র সর্ম্পকিত ধারাবাহিক এই কলমের উপস্থাপনা৷ যাতে পাঠক তার জীবন-যাপনকে সুস্থ ও সরল ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিচালিত করতে পারে সেকারণেই একের পর এক বাস্তু বিষয়ক লেখা, আলোচনা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়ে চলেছে৷ যাইহোক এবার আমরা দেখে নেব-আটটি দিকের গুরুত্ব৷ নিম্নে তা বিশদে আলোচনা করা হল-

(১) উত্তর দিক অধিদেবতা
এই দিকের অধিদেবতা হল-কুবের সোম বা চন্দ্র ৷

গুরুত্ব
উত্তর দিক মিত্র স্থান নির্দেশ করে৷ সেই কারণে বাস্তু ভূমির উত্তর দিক আবদ্ধ রাখা উচিত নয়৷

(২) দক্ষিণ দিক অধিদেবতা
এই দিকের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা হলেন যম৷

গুরুত্ব
এই দিক সমৃদ্ধিকারক৷ জীবনে সুখ শান্তি ও প্রফুল্লতা বিকাশে সহায়ক হয়৷

(৩) পূর্ব দিক অধিদেবতা
অধিদেবতা হলেন ইন্দ্র ও সূর্য৷

গুরুত্ব
শাস্ত্র মতে এই দিকটি পৈতৃক স্থান৷ স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বাসগৃহ তৈরির সময় জমির পূর্বদিকটি খোলামেলা রাখা প্রয়োজন৷ এই দিকটি আবদ্ধ থাকলে গৃহস্বামীর স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা দেখা যেতে পারে৷

(৪) পশ্চিম দিক অধিদেবতা
পশ্চিম দিকের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা বরুণ৷

গুরুত্ব
এই দিকটি গৃহকর্তার যশ, মান সম্মান, সর্বকার্যে সফলতা প্রদানে প্রভাব বিস্তার করে৷

(৫) ঈশান কোণ অধিকর্তা
এই কোণের অধিদেবতা সোম শিব৷

গুরুত্ব
এই কোণ বংশবৃদ্ধিকারক৷ সুতরাং এই দিকটি যথাসম্ভব দোষমুক্ত রাখা উচিৎ৷

(৬) নৈঋর্ত কোণ অধিদেবতা
এই কোণের অধিদেবতা নৈঋর্‌তি৷

গুরুত্ব
এই দিকটি গৃহস্বামী ও গৃহের অধিবাসীদের কর্তব্য, দায়িত্ব, প্রতিপালনীয় আচার-ব্যবহারকে প্রভাবিত করে৷

(৭) অগ্নি কোণ অধিদেবতা
এই কোণের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা হলেন অগ্নি ৷

গুরুত্ব

এই কোণ সুস্থ, সবল, নীরোগ স্বাস্থ্য প্রদানে প্রভাব বিস্তার করে৷

(৮) বায়ু কোণ অধিদেবতা
বায়ু কোণের অধিদেবতা-মরুত্ ৷

গুরুত্ব
এই কোণটি গৃহস্বামীর লোকসম্বন্ধ প্রদান করে৷ অর্থাত্ বহুলোকের সঙ্গে গৃহস্বামীর সম্পর্ক স্থাপনে এই কোণ প্রভাব বিস্তার করে৷ এই সম্পর্ক ভালো বা মন্দ উভয়ই হতে পারে৷ বায়ুকোণের শুভ প্রভাবে মিত্র লাভ হয়৷ অশুভ প্রভাবে শত্রুবৃদ্ধি ও বিভিন্ন হানির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়৷

এই ভাবে উপরিউক্ত আটটি দিক মানর জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে৷ বাস্তু শাস্ত্রের সঠিক প্রয়োগে এই প্রভাব মানব জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও শ্রীবৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে৷

জমি-বাড়ির বাস্তুসম্মত ব্যবহারিক নির্দেশ

জমি

(১) বর্গকার জমি শ্রেষ্ঠ। জমির আকার বর্গক্ষেত্র বা আয়তক্ষেত্র হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে বগলাকার জমির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ২:১ এর বেশী বা কম যেন না হয়।

(২) বিষম আকৃতির জমি সর্বদা পরিহার করা উচিত। যেমন বিষম বাহু, ডম্বরু আকার, ষড়কোণ যুক্ত,পঞ্চমুখী, ডিম্বাকৃতি, চক্রাকৃতি ত্রিকোনাকৃতি, কুলাকৃতি ধনুকাকৃতি, অর্ধচক্রাকার, সূচালো, দিক্‌পাল জমি না কানে ভাল।

(৩) জমির ইতিহাস জানা উচিত। যেমন-জমিটি কোন পশু বা মানুষের কবরখানা ছিল কিনা। এমন জমির উপর বাড়ি করা উচিত নয়।

(৪) জমির মাটি পরীক্ষা করে দেখা উচিত। শল্যদোষ যুক্ত জমি না কেনাই উচিত। আর জমির উপর দিয়ে যেন উচ্চ ক্ষমতায় বৈদ্যুতিক তার না যায়।

(৫) জমির উত্তর পূর্ব দিক খোলা থাকা উচিত। উত্তর পূর্বদিকে জলাশয় থাকা ভাল। জমির দক্ষিণ পশ্চিমদিকে উচুঁ গাছ, বড় বাড়ি, পাহাড় বা টিলা থাকা ভাল।

(৬) বাড়ির চারদিকে রাস্তা থাকা সবচেয়ে ভাল। তিনদিকে রাস্তাও ভাল। তবে কমপক্ষে দুদিকে রাস্তা থাকা ভাল অবশ্য দিক দুটি উত্তর, দক্ষিণ হওয়া চাই। যদি জমির একদিকে রাস্তা থাকে তাহলে সেটি উত্তর বা পূর্বদিক হলে ভাল। অন্যদিকে শুভ নয়। 'টি' বা 'ওয়াই' আকৃতির সংযোগস্থলের উপর বাড়ি করা কখনও উচিত নয়।

কোণের জমি

(৭) দুটো রাস্তার সংযোগস্থলের জমি লোভনীয়। কিন্তু এ ধরণের জমি কেনার আগে একটি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে, পুরোবিধির অনুযায়ী কোণের জমি বাড়ি করতে গেলে কোণার জমির কোণাকোনি ছাড়তে হবে। এই কোণাকোনি কাটা যেন উত্তর-পূর্বদিকে অথবা দক্ষিণ-পূর্বদিকে অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক না হয়।

বাড়ি তৈরি

(৮) জমি ভূমিপূজা, ভিত্তিপ্রস্তর, সীমানা প্রাচীর ও বাড়ির কর্তার কোষ্ঠী অনুযায়ী শুভ মুহূর্তে করাই শ্রেয়। বাড়ি তৈরির আগে প্রথমেই সীমানা প্রাচীর করতে হবে। সীমানা প্রাচীরের চারদিকের দেওয়ালের মধ্যে দক্ষিণ ও পশ্চিমের দেওয়াল মোট ও উচুঁ করতে হবে।

প্রধান প্রবেশদ্বার

(৯) বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার নির্ভর করে জমির কোন দিকে রাস্তা আছে তার উপর। বাড়ির প্রবেশদ্বার প্রধান চারটি দিকের যে কোন দিকেই যেতে পারে। তবে উত্তর বা পূর্বমুখী প্রধান প্রবেশদ্বার উত্তম।

(১০) বাড়ি প্রধান প্রবেশদ্বার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম যে কোন দিকে বসবার সময় প্রতিটি দিককে সমান ৯ ভাগে ভাগ করে বাঁদিকে থেকে ৩ ভাগ বাদ দিয়ে চতুর্থ ভাগে প্রধান প্রবেশদ্বার বসাতে হবে।

(১১) যদি রাস্তা প্রকৃত উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিমে না থাকে অন্যদিকে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে বাড়ির প্রবেশদ্বার এইভাবে বসানো যেতে পারে।

জানালা

(১২) বাড়ির জানালা উর্ধ্ব তুঙ্গস্থ বসাতে হবে। বাড়ির জানালা এমনভাবে বসাতে হবে যাতে 'ক্রস ভেন্টিলেশন' বা আড়াআড়ি আলো-বাতাস চলাচল করে।

(১৩) বাস্তুশাস্ত্র মতে জানালা বসাবার উপযুক্ত স্থান- (ক) পূর্বদিক (খ) উত্তরদিক (গ) উত্তর-পূর্বের পূর্বদিক (ঘ) উত্তর-পূর্বের দিক (ঙ) উত্তর-পশ্চিমের উত্তর দিক (চ) উত্তর-পশ্চিমদিক (ছ) দক্ষিণ দিক।

সিঁড়ির অবস্থান

(১৪) জমির দক্ষিণ অথবা পশ্চিম দিকে তৈরী করলে ফল ভালো হয়। সিঁড়ি ঘড়ির কাঁটার স্বাভাবিক ঘোরার কারণে ডান দিকে ওপরের দিকে ঘুরে যাবে।

(১৫) দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে সিঁড়ি করা সম্ভব না হলে দক্ষিণ-পূর্বের দক্ষিণদিক ও উত্তর পশ্চিম দিকের পশ্চিম দিকে সিঁড়ি করা চলবে। জমির উত্তর পূর্ব দিক হালকা ধরণের বলে উত্তর-পূর্ব দিক সিঁড়ি করা উচিত নয়। সিঁড়ি ওঠার সময় পূর্বদিক থেকে পশ্চিমদিক উঁচুতে উঠবে।

লিফ্‌ট

(১৬) বহুতল বাড়িতে বসানোর আর্দশস্থল হল দক্ষিণ, পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল।

রান্নাঘর

(১৭) বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিক আগ্নেয় স্থান। সে কারণে রান্নাঘর হওয়া উচিত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। কোন কারণে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রান্নাঘর করা সম্ভব না হলে বাড়ির উত্তর পশ্চিম দিকে রান্নাঘর করা যেতে পারে।

(১৮) রান্নাঘর কোন মতেই বাড়ির উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম বা ব্রহ্মস্থলে করা উচিত নয়। রান্না করার সময় রাধুনি বা গৃহিনীর মুখ পূর্বদিকে রাখা বাঞ্ছনীয়।

(১৯) রান্নাঘরের প্ল্যাটফর্ম পূর্বদিকে করতে হবে। প্ল্যাটফর্মের নীচে গশাস সিলিন্ডার রাখা ভাল। বাসনপত্রের আলমারি দক্ষিণ বা দক্ষিণ পশ্চিমদিকে রাখা উচিত।

(২০) রান্নাঘরের কল উত্তর পূর্ব কোণে হওয়া বাঞ্ছনীয়। জলের জাল বা ফিল্টারও উত্তর-পূর্ব দিকে। ভাঁড়ার ঘর হবে রান্নাঘরের উত্তর পশ্চিম দিকে।

শৌচাগার

(২১) শৌচাগারের অবস্থান হবে পশ্চিম, দক্ষিণ, উত্তর-পশ্চিম দিকে। শৌচাগারের কমোড বা প্যান উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বসাতে হবে।

স্নানাগার

(২২) পূর্বদিকে স্নানাগার করা শ্রেষ্ঠ। সম্ভব না হলে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে করা যেতে পারে।

নলকূপ

(২৩) বাড়ির উত্তর-পূর্বদিকে নলকূপ করা সবচেয়ে ভালো। তবে সম্ভব না হলে উত্তর পশ্চিম দিক করা ভালো। দক্ষিণ-পশ্চিম বা দক্ষিণ-পূর্বে নলকূপ বসানো উচিত নয়।

সেপটিক ট্যাঙ্ক ও সোকপিট

(২৪) বাড়ির পশ্চিম কোণে এবং মধ্য-উত্তরে মাটির নিচে করা ভাল। বিকল্প মধ্য-পূর্ব ও পূর্বে মাটির নিচে করা যেতে পারে।

ওভারহেড ট্যাঙ্ক

(২৬) ওভারহেড ট্যাঙ্ক হবে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের পশ্চিম দিকে।

আউট হাউস

(২৭) উত্তর অথবা পশ্চিম দিকে সীমানা দেওয়াল না ছুঁয়ে আউট তৈরী করতে হবে। আউট হাউসের উচ্চতা প্রধান দেয়ালের উচ্চতার কম হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বিদ্যুৎ সংযোগস্থল

(২৮) বাড়ি দক্ষিণ-পূর্বে বিদ্যুৎ সংযোগস্থল করা শ্রেষ্ঠ। বিকল্পে দক্ষিণ বা উত্তর দিকে কখনওই বিদ্যুৎ সংযোগ করা চলবে না। কেননা উত্তর-পূর্ব দিকটি বাস্তুশাস্ত্র মতে পঞ্চভৌতিক তত্ত্বানুযায়ী জলীয়স্থান। সে কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বা প্রকৃতপক্ষে অগ্নি সংযোগ, শাস্ত্রীয় অনুকূল নয়।

বারান্দা

(২৯) বাড়ির বারান্দা করতে হবে উত্তর বা পূর্বদিকে। বারান্দার ছাদ ও বাড়ির ছাদের স্তর এক সমান যেন না হয়।

গ্যারেজ

(৩০) বাড়ির গ্যারাজ হওয়া উচিত বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব বা উত্তর পশ্চিম অঞ্চল।

টেরাস

(৩১) টেরাস তৈরী করতে হবে উত্তর পূর্ব অংশে।

বসবার ঘর

(৩২) বাড়ির লোকজন ও অতিথিদের বসবার ঘর হবে পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিম দিকে। বাড়ির কর্তা পূর্ব বা উত্তরমুখী হয়ে অতিথিকে আপ্যায়ন করবেন।

পড়ার ঘর

(৩৩) পড়ার ঘর হওয়া উচিত বাড়ির উত্তর বা পশ্চিম দিকে। পড়ার সময় পূর্ব বা উত্তর দিকে তাকিয়ে পড়া উচিত। পড়ার টেবিলের ঢাকনা সবুজ হওয়া ভাল। পড়ার ঘরের দরজা উত্তর-পূর্ব দিক হওয়া শুভদায়ক।

ঠাকুর ঘর

(৩৪) ঠাকুর ঘর করা অবশ্য উচিত বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে। এই দিকটি জ্যোতিষ মতে বৃহস্পতি স্থান। বৈজ্ঞানিক মতে এই দিক ধনাত্মক শক্তির প্রাচুর্যে ভরা। মালিকানাযুক্ত ফ্ল্যাট বাড়িতে উত্তর-পূর্ব দিকে ঠাকুর ঘর সম্ভব না হলে সেইসব ফ্ল্যাটে ব্রহ্মস্থানে ছোট করে ঠাকুর ঘর তৈরী করা যেতে পারে। সম্ভব না হলে যে কোন ঘরের উত্তর-পূর্ব দিকে ঠাকুরের আসন চলবে।

কর্তার শোয়ার ঘর

(৩৫) কর্তার শোয়ার ঘর হবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। কর্তার শোয়ার খাট দক্ষিণ-পশ্চিমের দেওয়াল থেকে কম পক্ষে তিন ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে। শোয়ার সময় কর্তার মাথা দক্ষিণে ও পা উত্তরে থাকবে। মাথা যেন কখনও উত্তরে না থাকে।

(৩৬) শোয়ার ঘরের দরজা উত্তর পূর্ব দিকে রাখা উচিত।

(৩৭) প্রধান আলমারী ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিমে খাটের পাশে রাখতে হবে, যেন আলমারী মুখ থাকে উত্তর দিকে গৃহকর্তার টাকা পয়সা দরকারি কাগজ-পত্র ওই আলমারীতে রাখবেন। দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারী আলমারী রাখা সম্ভব না হলে গৃহকর্তার ঘরের উত্তর ছোট আলমারীতে টাকা-পয়সা রাখা হবে।

মেজেনাইন ফ্লোর

(৩৮) বাড়িতে মেজেনাইন ফ্লোর বানাতে হলে বাড়ির দক্ষিণ দিকে করা যেতে পারে।

বেসমেন্ট

(৩৯) বেসমেন্ট করা চলবে বাড়ির উত্তর-পূর্বদিকে। তবে বাড়ির দক্ষিণ বা পশ্চিম কোনও মতেই বেসমেন্ট করা উচিত নয়।

ব্রহ্মস্থান

(৪০) জমির মাঝখানটি হল ব্রহ্মস্থান। সেখানে বিম, কলাম, পিলার, দেওয়াল যেন না থাকে। অনুরূপ কারণে কোনও ঘরের মাঝখানে কোন ভারী জিনিস বসানো অবাঞ্ছনীয়।

ভাঁড়ার ঘর

(৪১) আলাদা করার সম্ভব হলে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে করা শ্রেষ্ঠ।

বক্সরুম

(৪২) বাড়ির টুকিটাকি জিনিস, পুরনো আসবাবপত্র, বিছানাপত্তর, পুরানো বাসনকোসন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের ঘরে অথবা যে কোন ঘরের (উত্তর পূর্ব বাদে) দক্ষিণ-পশ্চিমে উঁচু জায়গা বা লফট করে রাখা যেতে পারে।

বাগান

(৪৩) বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে বাগান করা সবচেয়ে ভালো। বিকল্পে উত্তর-পূর্বে বাগান করা চলবে।

জেনারেটর

(৪৪) বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ির জেনারটর ঘর দক্ষিণ-পূর্বে করা শ্রেষ্ঠ। বিকল্পে উত্তর-পশ্চিমে করা চলবে। কিন্তু কোন মতেই বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে চলবে না।

আসবাব

(৪৫) আয়না রাখার আদর্শ জায়গা পূর্ব বা উত্তরের দেওয়াল। কোনমতেই দক্ষিন-পশ্চিম বা দক্ষিণ দেওয়ালে বড় আয়না টাঙানো যাবে না।

(৪৬) দেওয়াল ঘড়ি দক্ষিণ ছাড়া যে কোনও দিকে টাঙানো চলবে। তবে পূর্বদিকে টাঙানো সবচেয়ে ভালো। বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম ঘরের দক্ষিণ দেওয়ালের দখিন-পশ্চিম কোণটি প্রয়াত পূর্বপুরুষের ছবি টাঙানো সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। বিকল্পে যে কোন ঘরের দেওয়ালে দক্ষিণ-পশ্চিমে টাঙানো চলবে।

(৪৭) বড় রেফ্রিজারেটর যে কোন ঘরের দক্ষিন-পূর্ব অথবা দক্ষিণ দিকে বসানো যেতে পারে। ছোট রেফ্রিজারেটর উত্তর-পশ্চিম বা পশ্চিম দিকে বসানো চলবে।

(৪৮) তবে বড় বা ছোট কোনও রেফ্রিজারেটরই কোনও উত্তর পূর্ব দেওয়ালে বসানো চলবে না।

(৪৯) টিভি যে কোন ও ঘরের উত্তর-পশ্চিমে বসানো সবচেয়ে ভালো। যেহেতু টিভি আমোদ-প্রমোদের সরঞ্জাম সে কারণে বিকল্প দক্ষিণ-পূর্বদিকে বসানো চলবে।

(৫০) বড় সোফাসেট বসার ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ বা পশ্চিম দেওয়ালে রাখা উচিত।

(৫১) পূর্বদিকের ঘরের মধ্যে পূর্বে ওয়াশিং মেসিন রেখে কাচা উচিত।

গৃহপালিত জীবজন্তু

(৫২) গরু-ছাগল রাখা যাবে ঘরের বাহিরে জমির উত্তর-পশ্চিমে। কুকুর-বিড়াল থাকবে উত্তর-পশ্চিমে সিড়িঁর নীচে বা ঠান্ডা জায়গায়।

(৫৩) ছোটপাখি, শৌখিন পাখি রাখা যেতে পারে বাড়ি বা ঘরের উত্তর-পশ্চিমে। রঙিন মাছ রাখা চলবে বারান্দা বা ঘরের উত্তর পূর্ব দিকে।

ড্রয়িং রুম বা বসবার ঘর

(৫৪) বাড়ির পূর্বে বা উত্তর-পশ্চিমে বসবার ঘর করা যেতে পারে।

ডাইনিং রুম বা খাওয়ার ঘর

(৫৫) বাড়ির পূর্ব বা পশ্চিমে খাওয়ার ঘর করা যেতে পারে।

লিভিং রুম

(৫৬) লিভিং রুম প্রধানত নির্ভর করে প্রধান দরজার উপর। কারণ প্রধান দরজার সামনের ঘরটাই সাধারণত লিভিংরুম হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পূর্বে বা পশ্চিমের ঘর লিভিং হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

বাদ্যযন্ত্রাদি রাখার জায়গা

(৫৭) গৃহের বিভিন্ন আসবারের মত সঙ্গীতের যন্ত্রাদি রাখার জন্যও নির্দিষ্ট স্থান বাস্তুশাস্ত্রে নির্দেশিত আছে। পেশাদার শিল্পীদের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, যথা- গিটার, হারমোনিয়াম, সেতার, সরোদ, সারেঙ্গি, তানপুরা, বীনা, বীন, তবলা, আধুনিক সিন্থেসাইজার, পিয়ানো ইত্যাদি বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকের ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণে রাখতে হবে। সঙ্গীত কারক গ্রহ চন্দ্র। আর উত্তর-পশ্চিম কোণে জ্যোতিষ মতে চন্দ্রের স্থান বলে ওই স্থানে বাদ্যযন্ত্রাদি রাখলে সঙ্গীতশিল্পীর পক্ষে শুভদায়ক। শিল্পীর সঙ্গীতজীবন পরিপূর্ণ হবে। তবে পুরানো দিনের বিশাল আকারের পিয়ানো রাখা চলবে উত্তর-পশ্চিম দিকের ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণায়।

বিবিধ

জুতো রাখার জায়গা

(৫৮) বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম ঘরের দক্ষিণ বা দক্ষিণ পূর্বদিকের দেওয়ালে জুতো রাখার জায়গা করা যেতে পারে। বিকল্পে উত্তর-পশ্চিমের ঘরের দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্বে রাখা যেতে পারে। কোনও মতেই কোন ও ঘরের উত্তর-পূর্বে রাখা অনুচিত।

আর্বজনা

(৫৯) বাড়ির আর্বজনা কখনো জমিয়ে রাখবেন না। ময়লা জমলেই সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁটা দিয়ে বাহিরে বের করে দেবেন। ময়লা রাখার জায়গা বাড়ির দক্ষিণ দিকে, বিকল্পে উত্তর পশ্চিমে করা যেতে পারে।

সীমানা প্রাচীর

(৬০) পূর্বমুখী জমি উত্তর পূর্বদিকের পূর্ব দিকে করতে হবে। পশ্চিমমুখী জমি উত্তর পশ্চিমের পশ্চিম দিকে করতে হবে।

(৬১) উত্তরমুখী জমি- উত্তর পূর্বের উত্তর দিকে করতে হবে। দক্ষিণমুখী জমি- দক্ষিণ পূর্বের দক্ষিণ দিকে করতে হবে।

English summary
Your house And vastu Shastra
Please Wait while comments are loading...